সাহিত্য পাঠ • গন্তব্য কাবুল

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

আশি বছর বয়সী আব্দুল মান্নান সাহেব প্রায়ই ছুটির দিনে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে শপিং মলের সিনেমা হলে যান। প্রতিবেশীরা অবাক হলে তিনি হেসে বলেন, “ওদের গান-সিনেমা না দেখলে ওদের ভাবনা বুঝব কী করে?” একদিন নাতনি বলল, “দাদু, এই টিকিটের দাম কিন্তু বেশিই।” দাদু জবাব দিলেন, “ওদের জগৎ বুঝতে পারা কি টাকার হিসাবে মাপা যায়?” মান্নান সাহেবের রসিকতা ও যুক্তির কাছে পরিবারের সবাই সহজেই হার মানে।

  1. ক)

    পেশোয়ারে একটি শলওয়ার বানাতে কত গজ কাপড় লাগে?

    (1)
  2. খ)

    “সর্দারজিকে হারাবার উপায় নেই।”- লেখক এ কথা বলেছেন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মান্নান সাহেবের সঙ্গে ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার সর্দারজির মিল কোথায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “সর্দারজি কেবল রসিক নন, বাস্তববাদী ও যুক্তিনিষ্ঠও।”- উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সর্দারজির কথা অনুযায়ী পেশোয়ারে একটি শলওয়ার বানাতে সাড়ে দশ গজ কাপড় লাগে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রেলগাড়ির সহযাত্রী বৃদ্ধ সর্দারজি লেখকের প্রতিটি কথাকেই হাসিমুখে যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করেছেন। লেখক শার্ট পরার কারণে বাঙালি চেনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে সর্দারজি বলেন, শার্ট এক ফুট জায়গা ঢাকা দেয়, তা দিয়ে কি মানুষ মানুষকে চেনে? ধুতি-পাঞ্জাবির কথা বললেও তিনি হেসে উড়িয়ে দেন। কাপড়ের অপচয় নিয়ে লেখক আপত্তি করলেও তিনি মেমসাহেবদের দশ-বারো ফ্রকের উদাহরণ টেনে এনে লেখকের মুখ বন্ধ করে দেন। তাই লেখক বুঝতে পেরেছেন যে সর্দারজির সঙ্গে তর্কে জেতা সম্ভব নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মান্নান সাহেব ও ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার ট্রেনের বুড়ো সর্দারজির মধ্যে প্রধান মিল দেখা যায় নতুন প্রজন্মকে বোঝার আগ্রহ এবং যুক্তি ও রসিকতার ক্ষেত্রে।

    রচনায় সর্দারজি লেখককে বলেন, তিনি বুড়োবয়সেও মাঝে মাঝে বায়স্কোপ দেখতে যান। কারণ তাঁর একপাল নাতি-নাতনি আছে, আর না গেলে ছেলে-ছোকরাদের মতিগতি বোঝার উপায় নেই। উদ্দীপকের মান্নান সাহেবও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে যান ওদের ভাবনা বোঝার জন্য।

    তাছাড়া দুজনের কথাতেই মিষ্টি রসবোধ ও যুক্তির প্রাধান্য আছে। সর্দারজি বিশ গজ শলওয়ারের পক্ষে মেমসাহেবদের দশ-বারোখানা ফ্রকের উদাহরণ দিয়ে যুক্তি দেখান। মান্নান সাহেবও টিকিটের দামের প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, ওদের জগৎ বোঝা কি টাকার হিসাবে মাপা যায়? এভাবে বয়সের পরিণতি, কৌতূহল ও রসিকতার দিক থেকে দুজন সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনায় লেখক সর্দারজিকে একজন রসিক, অভিজ্ঞ ও যুক্তিনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।

    সর্দারজির রসিকতা প্রকাশ পেয়েছে তাঁর কথায়। জবরজঙ্গ দাড়ি-গোঁফের ভিতর তাঁর মিষ্টি মোলায়েম হাসি, শলওয়ারের কাপড় নিয়ে দিল্লি থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত গজের হিসাব দেওয়ার ভঙ্গি, কিংবা শার্ট ও পাঞ্জাবি নিয়ে মজার উত্তর, সবকিছুতেই রসবোধ ফুটে ওঠে।

    তাঁর বাস্তববাদিতা ও যুক্তিনিষ্ঠা দেখা যায় যখন লেখক এত কাপড়ে নড়াচড়ার অসুবিধার কথা তোলেন। সর্দারজি সিনেমায় দেখা চল্লিশ গজ কাপড়ের ফ্রক পরা মেমদের নেচেকুঁদে থাকার উদাহরণ দিয়ে বলেন, তাহলে মদ্দা পাঠান বিশ গজ শলওয়ার পরে মারপিট করতে পারবে না কেন। অর্থাৎ তিনি চোখে দেখা ঘটনা থেকে সিদ্ধান্ত নেন।

    উদ্দীপকের মান্নান সাহেবের মধ্যেও একই গুণ দেখা যায়। তিনি সিনেমা হলে গিয়ে সরাসরি নতুন প্রজন্মের জগৎ বুঝে নিতে চান এবং ‘টাকার হিসাব’ প্রশ্নে পাল্টা যুক্তি দিয়ে সবাইকে হার মানান। রচনার সর্দারজির মতোই তাঁর রসিকতা তাঁর যুক্তিবোধেরই বাহন।

    সর্দারজির যুক্তির পর লেখক “হক কথা” বলে তা মেনে নিয়েছেন, যদিও ‘বাজে খরচ’ বলে সামান্য আপত্তিও রেখেছেন। এতে বোঝা যায়, সর্দারজির যুক্তি প্রায় অকাট্য। তাঁর বাস্তবসম্মত, অভিজ্ঞতালব্ধ ও যুক্তিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে মন্তব্যটি সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও