বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
একটি মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীরা ‘আদর্শ স্কুল সরকার’ নামে একটি অনুশীলন কর্মসূচি চালু করেছে। এতে তিনটি দল রয়েছে। প্রথম দল স্কুলের নিয়ম-কানুন তৈরি ও প্রয়োজনে সংশোধন করে। দ্বিতীয় দল সেই নিয়মগুলো বাস্তবায়ন করে ও দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করে। তৃতীয় দল নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ শুনে সিদ্ধান্ত দেয়। সম্প্রতি দ্বিতীয় দলের একজন সদস্য ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় প্রথম দলের সদস্যরা তাঁকে প্রশ্ন করেন ও তাঁর কাজের সমালোচনা করেন।
- ক)(1)
সরকারের বিভাগ কয়টি ও কী কী?
- খ)(2)
আইনসভা কীভাবে গঠিত হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তিনটি দল সরকারের কোন কোন বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করে? প্রতিটির কাজসহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ ঘটনাটি জাতীয় সংসদ কর্তৃক শাসনবিভাগ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত? এ নিয়ন্ত্রণ কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সরকারের বিভাগ তিনটি। যথা: ১. নির্বাহী বা শাসনবিভাগ, ২. আইনবিভাগ ও ৩. বিচারবিভাগ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আইনসভা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনোনীত সদস্যও থাকতে পারেন। এটি আইন প্রণয়ন করে এবং প্রয়োজনে প্রচলিত আইন সংশোধন করে। আইনসভা প্রণীত আইন রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মতি লাভের পর কার্যকর হয়। বাংলাদেশের আইনসভা জাতীয় সংসদ, যার সদস্যসংখ্যা ৩৫০ জন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রথম দল আইনবিভাগ, দ্বিতীয় দল নির্বাহী বা শাসনবিভাগ এবং তৃতীয় দল বিচারবিভাগের প্রতিনিধিত্ব করে।
আইনবিভাগ: এর প্রধান কাজ নতুন আইন প্রণয়ন এবং পুরনো আইন পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করা। প্রথম দল নিয়ম তৈরি ও সংশোধন করে, যা আইনবিভাগের কাজের অনুরূপ।
নির্বাহী বিভাগ: রাষ্ট্রের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে এ বিভাগ। দ্বিতীয় দলও নিয়ম বাস্তবায়ন ও দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করে।
বিচারবিভাগ: এ বিভাগ আইন অনুসারে বিচার কাজ পরিচালনা ও আইন ভঙ্গকারীকে শাস্তি প্রদান করে। তৃতীয় দল অভিযোগ শুনে সিদ্ধান্ত দেয়, যা বিচারবিভাগের কাজের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে প্রথম দল (আইনবিভাগ) দ্বিতীয় দলের (শাসনবিভাগ) সদস্যকে প্রশ্ন করেছে ও কাজের সমালোচনা করেছে। এটি জাতীয় সংসদ কর্তৃক শাসনবিভাগ নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা শাসনসংক্রান্ত সকল কাজের জন্য সংসদের কাছে দায়ী থাকে। সংসদ সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা এবং মন্দ কাজের সমালোচনা করতে পারে। এছাড়া মুলতবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব, মন্ত্রীদের প্রতি প্রশ্ন ও অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে সংসদ শাসনবিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। সংসদ সদস্যদের আস্থা হারালে যেকোনো মন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ মানে সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভার পদত্যাগ।
এ নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ কারণ:
১. এটি সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।
২. শাসনবিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে।
৩. সরকারকে জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাবের প্রতি মনোযোগী রাখে।
৪. গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।উদ্দীপকের মতো সংসদীয় নিয়ন্ত্রণের ফলে দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মকর্তা বা মন্ত্রী সতর্ক হন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও