জীববিজ্ঞান • কোষ বিভাজন

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

একটি ভ্রূণ কোষের দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা ৮। পুষ্টি সরবরাহ অক্ষুণ্ণ থাকায় কোষটি মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হতে থাকল। প্রতিটি বিভাজনে এক দিন সময় লাগে এবং সব কোষই বিভাজনক্ষম থাকে। ইউসুফ সাহেব বললেন, 'একটিমাত্র কোষ থেকে কয়েক দিনেই অসংখ্য কোষ তৈরি হলেও সব কোষের বৈশিষ্ট্য একই থাকে।'

  1. ক)

    অপত্য কোষ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মাইটোসিসের মাধ্যমে বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কোষটি ৬ দিন পর কতটি কোষে পরিণত হবে এবং ওই সময়ে সব কোষে মোট ক্রোমোজোম সংখ্যা কত হবে? নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ইউসুফ সাহেবের মন্তব্যটি মাইটোসিসের বৈশিষ্ট্যের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোষ বিভাজনের ফলে মাতৃকোষ থেকে যে নতুন কোষ সৃষ্টি হয়, তাকে অপত্য কোষ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় একটি কোষ থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি, এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এর ফলে একটি কোষ থেকে অসংখ্য কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে বহুকোষী জীব পূর্ণ আকার লাভ করে। বিভাজনের কারণে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের আয়তনগত ভারসাম্যও রক্ষিত হয়। আবার অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা ও গুণাগুণ একই থাকায় বৃদ্ধি সুশৃঙ্খলভাবে ঘটে। তাই মাইটোসিসের মাধ্যমে জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রতি বিভাজনে কোষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়। অতএব ১ম দিনে ২টি, ২য় দিনে ৪টি, ৩য় দিনে ৮টি এবং এভাবে ৬ষ্ঠ দিনে কোষের সংখ্যা হবে 26=642^6 = 64টি।
    মাইটোসিসে প্রতিটি অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান ৮টি থাকে। সুতরাং মোট ক্রোমোজোম সংখ্যা হবে 64×8=51264 \times 8 = 512টি।
    উত্তর: কোষের সংখ্যা ৬৪টি এবং মোট ক্রোমোজোম ৫১২টি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইউসুফ সাহেবের মন্তব্যটি যথার্থ। মাইটোসিসের নিচের বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্য একটি কোষ থেকে দ্রুত অসংখ্য কোষ তৈরি হলেও তাদের বৈশিষ্ট্য একই থাকে:
    ১. দ্রুত কোষ সংখ্যা বৃদ্ধি: প্রতিবার বিভাজনে কোষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়। উদ্দীপকে ৬ দিনে ৬৪টি কোষ হয়েছে। একই হারে ১০ দিনে 210=10242^{10} = 1024টি কোষ হবে। তাই অল্প সময়েই বিপুলসংখ্যক কোষ তৈরি সম্ভব। যেমন: মানবদেহের প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন কোষ মাত্র ৪০-৫০ দিনে তৈরি হতে পারে।
    ২. ক্রোমোজোম সংখ্যার সমতা: এ বিভাজনে প্রতিটি অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের মতোই ৮টি থাকে।
    ৩. গুণাগুণের একরূপতা: ক্রোমোজোমে একই জিন থাকায় সব কোষের গুণগত বৈশিষ্ট্য একই থাকে।
    ৪. সুশৃঙ্খল বৃদ্ধি: ক্রোমোজোম সংখ্যা ও গুণাগুণ একই থাকায় দেহের বৃদ্ধি সুশৃঙ্খলভাবে হয় এবং নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের আয়তনগত ভারসাম্য রক্ষিত হয়।
    সুতরাং মাইটোসিসের ফলে কোষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সব কোষের বৈশিষ্ট্য একই থাকে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও