‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • জনসেবা ও আমলাতন্ত্র

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

কৃষক জনাব করিম সার ডিলারশিপের লাইসেন্স নবায়নের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসে আবেদন করেন। ফাইলটি এক টেবিল থেকে আরেক টেবিল ঘুরে জেলা অফিসে পৌঁছাতে ছয় মাস লেগে যায়। পরে জানা যায়, কাজটির একটি অংশ সমবায় অফিসের সুপারিশের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দুই অফিস একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে সমন্বয় করতে অনীহা দেখায়। করিম বারবার অফিসে গিয়েও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ পাননি।

  1. ক)

    লালফিতার দৌরাত্ম্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বিভাগীয় মনোভাবকে আমলাতন্ত্রের মারাত্মক ত্রুটি বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    জনাব করিমের লাইসেন্স নবায়নে ছয় মাস সময় লাগাকে আমলাতন্ত্রের কোন ত্রুটির ফল বলা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তুমি কী কী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমলাতন্ত্রের অনাধুনিকতা, দীর্ঘসূত্রিতা ও নিয়মকানুনের অতি কড়াকড়ির কারণে কাজে যে অযথা বিলম্ব ঘটে, তাকে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমলাতান্ত্রিক কাঠামোতে সরকারের কাজ বিভিন্ন বিভাগ বা দপ্তরের মধ্যে ভাগ করা থাকে। প্রত্যেক দপ্তর নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখে এবং অন্য দপ্তরের সাথে সমন্বয়ে আগ্রহ দেখায় না। ফলে আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতার বদলে বিরোধ ও প্রতিযোগিতা প্রাধান্য পায় এবং সরকারের সামগ্রিক কাজ ব্যাহত হয়। স্ট্রাউসের মতে, বিভাগীয় মনোভাব আমলাতন্ত্রের প্রধান ত্রুটি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জনাব করিমের লাইসেন্স নবায়নে ছয় মাস সময় লাগাকে আমলাতন্ত্রের লালফিতার দৌরাত্ম্যের ফল বলা যায়।
    লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে আমলাদের অতিরিক্ত নিয়মকানুন মানা, আনুষ্ঠানিক পদ্ধতির বাইরে কিছু না করা এবং কাজে দীর্ঘসূত্রিতাকে বোঝায়। এখানে ফাইল অধস্তন থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার টেবিল ঘুরে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে অনেক সময় পেরিয়ে যায়। উদ্দীপকে করিমের ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরে ছয় মাসে জেলা অফিসে পৌঁছেছে, যা এই ত্রুটিরই প্রতিফলন। এর ফলে জনগণ সময়মতো সেবা পায় না এবং আমলাদের কাজে গতি আসে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে করিমের হয়রানির পেছনে লালফিতার দৌরাত্ম্য, বিভাগীয় মনোভাব, দায়িত্বহীনতা এবং জনস্বার্থের প্রতি উদাসীনতা কাজ করেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আমি নিচের ব্যবস্থাগুলোর সুপারিশ করব:
    ১. পদ্ধতি সহজীকরণ: ফাইল চলাচলের ধাপ কমিয়ে সময়সীমা নির্ধারণ করলে দীর্ঘসূত্রিতা কমবে। অনলাইন আবেদন ও ডিজিটাল ফাইল ব্যবস্থা চালু করলে ফাইল টেবিলে আটকে থাকার সুযোগ কমে যাবে।
    ২. আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়: কৃষি ও সমবায় অফিসের মধ্যে যৌথ সমন্বয় সভা ও সময়সীমাভিত্তিক সুপারিশ দেওয়ার নিয়ম থাকলে বিভাগীয় মনোভাব দূর হবে।
    ৩. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: বিলম্বের জন্য দায়ী কর্মকর্তাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য করলে দায় চাপানোর প্রবণতা কমবে।
    ৪. প্রশিক্ষণ ও মানসিকতার পরিবর্তন: আমলাদের জনসেবামূলক প্রশিক্ষণ দিলে তাঁরা নিজেদের জনগণের প্রভু নয়, সেবক ভাববেন এবং নাগরিকদের প্রতি আন্তরিক আচরণ করবেন।
    এসব ব্যবস্থা নিলে আমলাতন্ত্র আরও গণমুখী ও গতিশীল হবে এবং করিমের মতো নাগরিকরা দ্রুত সেবা পাবেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও