বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
রহিমপুর ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে এবং ইউনিয়নে প্রায় ১২টি গ্রাম আছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইউনিয়নের সবাই ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের অংশগ্রহণে এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করেন, আইনের ভিত্তিতে কর আদায় করে তহবিল গড়েন এবং কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করেন।
- ক)(1)
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?
- খ)(2)
ইউনিয়ন পরিষদকে এদেশের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রহিমপুর ইউনিয়নের পরিষদ কতজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে এবং তাঁরা কীভাবে নির্বাচিত হবেন তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের কোন কোন বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গণতন্ত্রকে কীভাবে শক্তিশালী করে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বোঝায়। এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা এটি পরিচালিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্রিটিশ আমলে গ্রাম এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৮৭০ সালে চৌকিদারি পঞ্চায়েত আইন প্রবর্তিত হয়। ১৯১৯ সালের পল্লি আইনে এর স্থলে ইউনিয়ন বোর্ড গঠিত হয়। পাকিস্তান আমলে এর নাম হয় ইউনিয়ন কাউন্সিল এবং স্বাধীনতার পর এটি ইউনিয়ন পরিষদ নামে পরিচিত হয়। ব্রিটিশপূর্ব আমল থেকে বর্তমান পর্যন্ত এটি গ্রামাঞ্চলে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তাই একে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদে একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, নয়জন সাধারণ সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে তিনজন মহিলা সদস্য থাকেন। রহিমপুর ইউনিয়নে ওয়ার্ড ৯টি। সুতরাং সদস্যসংখ্যা হবে জন।
নির্বাচন পদ্ধতি: প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে একজন করে মোট নয়জন সাধারণ সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। প্রতি ৩টি ওয়ার্ডে একজন মহিলা সদস্য পুরুষ ও মহিলা সকলের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। চেয়ারম্যানও জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। পরিষদের কার্যকাল ৫ বছর। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট:
১. নির্বাচিত সংস্থা: জনগণ ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন।
২. সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের অংশগ্রহণ: জনগণের অংশগ্রহণে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি হয়।
৩. আইনগত ভিত্তি ও করারোপের ক্ষমতা: আইনের ভিত্তিতে কর আদায় করে তহবিল গঠন করা হয়।
৪. জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা: প্রতিনিধিরা কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করেন।
গণতন্ত্রে ভূমিকা: স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন জনগণকে শাসন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। এতে জনগণের সচেতনতা বাড়ে এবং নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রের মুখাপেক্ষিতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে, ফলে স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়। প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং অঞ্চল নির্বিশেষে সুষম উন্নয়ন হয়।
সুতরাং ইউনিয়ন পরিষদের মতো প্রতিষ্ঠান জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে গণতন্ত্রের ভিত সুদৃঢ় করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও