ভূগোল ২য় পত্র • বাণিজ্য

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

সিলেটের ব্যবসায়ী জামাল সাহেবের স্থানীয় বৈদ্যুতিক পাখার কারখানা আছে। সম্প্রতি একটি প্রতিবেশী দেশ নামমাত্র দামে প্রচুর পাখা বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। দামে কম হওয়ায় ক্রেতারা সেগুলোই কিনছে। ফলে জামাল সাহেবের কারখানার বিক্রি কমে গেছে এবং কয়েকজন শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে।

  1. ক)

    ডাম্পিং কী?

    (1)
  2. খ)

    বৈদেশিক বাণিজ্য আত্মনির্ভরশীলতার পরিপন্থী কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্যের কোন অসুবিধার শিকার হচ্ছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে ‘সুষ্ঠু বাণিজ্য কৌশল’ অবলম্বন কতটা জরুরি—বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর একটি দেশ অন্য দেশের শিল্পকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে নামমাত্র দামে প্রচুর পরিমাণে দ্রব্য রপ্তানি করাকে ডাম্পিং বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বৈদেশিক বাণিজ্যে কোনো দেশ নির্দিষ্ট কিছু দ্রব্য উৎপাদনে পারদর্শিতা অর্জন করে এবং অন্য দ্রব্যের জন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভর করে। ফলে প্রয়োজনীয় সব দ্রব্যের জন্য দেশটি স্বাবলম্বী হতে পারে না। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এ পরনির্ভরশীলতা বিপজ্জনক। শক্তিশালী দেশগুলো তখন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পায়। তাই বৈদেশিক বাণিজ্য আত্মনির্ভরশীলতার পরিপন্থী।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্যের ডাম্পিং নামক অসুবিধার শিকার হচ্ছে।

    বৈদেশিক বাণিজ্যের সুযোগ নিয়ে এক দেশ অন্য দেশের শিল্প ধ্বংস করার জন্য নামমাত্র দামে প্রচুর পরিমাণে দ্রব্য রপ্তানি করতে পারে। উদ্দীপকে একটি প্রতিবেশী দেশ নামমাত্র দামে প্রচুর বৈদ্যুতিক পাখা বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। এর ফলে ক্রেতারা কম দামের আমদানিকৃত পাখা কিনছে এবং জামাল সাহেবের মতো স্থানীয় উৎপাদকের বিক্রি কমে গেছে, শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। পাঠ্যবইয়েও এশিয়ার কয়েকটি দেশ থেকে বৈদ্যুতিক পাখা আসায় বাংলাদেশে দেশীয় পাখার ব্যবহার কমার কথা বলা হয়েছে। তাই এটি ডাম্পিংয়ের উদাহরণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সমস্যাটি হলো ডাম্পিংয়ের ফলে দেশীয় শিল্পের ক্ষতি। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, বৈদেশিক বাণিজ্যের নানা অসুবিধা সুষ্ঠু বাণিজ্য কৌশল অবলম্বন করে কাটিয়ে ওঠা সময়ের দাবি। এটি অত্যন্ত জরুরি, যুক্তিগুলো নিচে দেওয়া হলো।

    ১. দেশীয় শিল্প রক্ষা: বিদেশ থেকে কম দামে পণ্য এলে জনগণ দেশীয় পণ্য কিনতে চায় না। জামাল সাহেবের কারখানার বিক্রি কমে যাওয়া তারই প্রমাণ। সুষ্ঠু বাণিজ্য কৌশল না নিলে দেশীয় শিল্প অন্তরায়ের মুখে পড়ে ধ্বংস হতে পারে।

    ২. কর্মসংস্থান রক্ষা: কারখানা বন্ধ বা সংকুচিত হলে শ্রমিক ছাঁটাই হয়, যেমনটি উদ্দীপকে ঘটেছে। কৌশলগত পদক্ষেপ ছাড়া বেকারত্ব বাড়বে।

    ৩. উন্নত ও শক্তিশালী দেশের শোষণ ও দ্বন্দ্ব এড়ানো: কৌশল না থাকলে অন্য দেশ অবাধে বাজার দখল করতে পারে। এতে বাণিজ্যিক স্বার্থ নিয়ে সংঘাত তৈরি হতে পারে।

    সুষ্ঠু কৌশলের অংশ হিসেবে ডাম্পিং করা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ, আমদানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, দেশীয় পণ্যের মান উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং সরকারি সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। এ পদক্ষেপগুলো নিলে বৈদেশিক বাণিজ্য সচল রেখেও দেশীয় শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব।

    সুতরাং উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে সুষ্ঠু বাণিজ্য কৌশল অবলম্বন অত্যন্ত জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও