জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

নবম শ্রেণির ছাত্রী নুসরাতের গলার দুই পাশে ফুলে ওঠা শিমের বীজের মতো গ্রন্থি দেখে ডাক্তার জানালেন, সংক্রমণ হলে এগুলোতে লিম্ফোসাইট জমা হয়। ডাক্তার তাকে আরও বললেন, দেহে একটি লালচে বর্ণের মুষ্টি আকারের অঙ্গ রয়েছে যেটি রক্তের ফিল্টারের মতো কাজ করে এবং এটি দেহের সবচেয়ে বড় লসিকা গ্রন্থি। এছাড়া শ্বাসনালির পিছনে একটি গ্রন্থি আছে, যেখানে এক ধরনের কোষ পরিণত হয়।

  1. ক)

    লিম্ফয়েড অঙ্গ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অস্থিমজ্জাকে অনাক্রম্যতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত লালচে বর্ণের অঙ্গটি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শ্বাসনালির পিছনের গ্রন্থিটি এবং অস্থিমজ্জা—এ দুটি অঙ্গের ভূমিকার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানবদেহের অনাক্রম্য ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব অঙ্গ লিম্ফোসাইট উৎপাদন ও সঞ্চয় করে, তাদের লিম্ফয়েড অঙ্গ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অস্থিমজ্জা লোহিত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকা উৎপাদনের পাশাপাশি অনাক্রম্যতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ কোষ উৎপন্ন করে। এখানে B-কোষ, প্রাকৃতিক মারণকোষ, গ্রানুলোসাইট ও অপরিপক্ব থায়মোসাইট তৈরি হয়। এছাড়া ফ্যাগোসাইটের স্টেমকোষও এখান থেকে আসে এবং নিউট্রোফিল এখানে মজুদ থাকে। তাই অস্থিমজ্জা অনাক্রম্যতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো প্লীহা (Spleen)। এটি উদর গহ্বরে অবস্থিত লালচে বর্ণের মুষ্টি আকারের একটি গঠন। প্লীহাকে রক্তের ‘ইমিউনোলজিক্যাল ফিল্টার’ বলা হয়, কারণ এটি রক্ত ছেঁকে জীবাণু ও পুরনো কোষ অপসারণ করে। এতে অসংখ্য লোহিত রক্তকণিকার পাশাপাশি T-কোষ, B-কোষ, ডেনড্রাইটিক কোষ, NK-কোষ ও ম্যাক্রোফেজ থাকে। এটি দেহের সবচেয়ে বড় লসিকা গ্রন্থি এবং অনাক্রম্যতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে শ্বাসনালির পিছনের গ্রন্থিটি হলো থাইমাস গ্রন্থি। থাইমাস ও অস্থিমজ্জা উভয়ই লিম্ফয়েড অঙ্গ এবং লিম্ফোসাইট সৃষ্টি ও পরিপক্বতায় অংশ নেয়, কিন্তু ভূমিকায় পার্থক্য রয়েছে। ১. অবস্থান: থাইমাস শ্বাসনালির পিছনে থাকে; অস্থিমজ্জা অস্থিগহ্বরে নরম ও চর্বিযুক্ত টিস্যু হিসেবে থাকে। ২. কোষ উৎপাদন: থাইমাস T-কোষ উৎপাদন করে; অস্থিমজ্জা B-কোষ, প্রাকৃতিক মারণকোষ, গ্রানুলোসাইট ও অপরিপক্ব থায়মোসাইট উৎপন্ন করে। ৩. বিশেষ ভূমিকা: থাইমাসে T-কোষ বর্ধিত ও পরিণত হয় এবং কোষ-নির্ভর ইমিউনিটির ভিত্তি তৈরি হয়; অস্থিমজ্জা রস-নির্ভর ইমিউনিটির জন্য অ্যান্টিবডি উৎপাদনকারী B-কোষ তৈরি করে। ৪. অন্যান্য ভূমিকা: অস্থিমজ্জা লোহিত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকাও তৈরি করে এবং ফ্যাগোসাইটের উৎস, কিন্তু থাইমাসের এমন ভূমিকা নেই। অতএব দুটি অঙ্গ একে অপরের পরিপূরক। এদের একটি বিকল হলে অনাক্রম্যতার অংশবিশেষ দুর্বল হয়ে যাবে—থাইমাসের ক্ষতিতে T-কোষ নির্ভর ইমিউনিটি এবং অস্থিমজ্জার ক্ষতিতে B-কোষ ও ফ্যাগোসাইট উৎপাদন ব্যাহত হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও