ভূগোল ২য় পত্র • মানচিত্র অভিক্ষেপ

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

নুসরাত শ্রেণিকক্ষের এটলাসে একটি বিশ্বমানচিত্র লক্ষ করল। মানচিত্রে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো সরলরেখা, পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করেছে এবং রেখাগুলোর মধ্যবর্তী ব্যবধান সমান। সে দেখল, নিরক্ষরেখার কাছাকাছি দেশগুলোকে মোটামুটি ঠিক দেখালেও মেরুর কাছাকাছি গ্রিনল্যান্ডকে ভূগোলকের তুলনায় অনেক বড় দেখাচ্ছে।

  1. ক)

    সরল বেলন অভিক্ষেপের অপর নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    সরল বেলনাকার অভিক্ষেপ সম-আয়তনিক নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে নুসরাতের দেখা মানচিত্রটির অভিক্ষেপের বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে নুসরাতের লক্ষ করা গ্রিনল্যান্ডের আকারের অস্বাভাবিকতার কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সরল বেলন অভিক্ষেপের অপর নাম সমদূরবর্তী বেলন অভিক্ষেপ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সরল বেলনাকার অভিক্ষেপে সব অক্ষরেখা নিরক্ষরেখার সমান দীর্ঘ করে আঁকা হয়। অথচ প্রকৃতপক্ষে মেরুর দিকে গেলে অক্ষরেখার দৈর্ঘ্য ক্রমশ কমে। ফলে উচ্চ অক্ষাংশের স্থানগুলো পূর্ব-পশ্চিমে প্রসারিত হয়ে প্রকৃত আয়তনের চেয়ে বড় দেখায়। আয়তন সঠিক থাকে না বলে এটি সম-আয়তনিক নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে নুসরাতের দেখা মানচিত্রটি সরল বেলনাকার অভিক্ষেপে আঁকা, যেখানে ভূগোলককে একটি বেলনের ভেতরে স্থাপন করে তার ছায়া বেলনের গায়ে ফেলা হয়। এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
    ১. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো সরলরেখা এবং এদের মধ্যবর্তী ব্যবধান সমান থাকে।
    ২. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করে।
    ৩. উচ্চ অক্ষাংশের দেশগুলোর আকৃতির বিকৃতি ঘটে।
    ৪. এটি সম-আয়তনিক (equal area) নয়।
    উদ্দীপকের মানচিত্রে রেখাগুলোর সরলতা, সমান ব্যবধান ও সমকোণে ছেদ- এ বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্ট দেখা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মানচিত্রটি সরল বেলনাকার অভিক্ষেপে আঁকা। এ অভিক্ষেপে গ্রিনল্যান্ড অস্বাভাবিক বড় দেখানোর কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
    ১. অক্ষরেখার সমান দৈর্ঘ্য: ভূগোলকে অক্ষরেখার দৈর্ঘ্য নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে ক্রমশ কমে এবং মেরুতে তা বিন্দুতে পরিণত হয়। কিন্তু এই অভিক্ষেপে সব অক্ষরেখা নিরক্ষরেখার সমান দৈর্ঘ্যে আঁকা হয়। ফলে গ্রিনল্যান্ডের মতো উচ্চ অক্ষাংশের স্থানগুলো পূর্ব-পশ্চিমে অনেক বেশি প্রসারিত হয়।
    ২. সমকোণে ছেদ ও সরল দ্রাঘিমারেখা: দ্রাঘিমারেখাগুলো সরল ও সমান্তরাল হওয়ায় বাস্তবে মেরুর দিকে এগুলোর পরস্পরের কাছাকাছি চলে আসার প্রবণতা মানচিত্রে দেখা যায় না। এতে বিকৃতি আরও বাড়ে।
    ৩. ফলাফল: উচ্চ অক্ষাংশে আকৃতি ও আয়তন উভয়ই বিকৃত হয়। তাই গ্রিনল্যান্ড ভূগোলকের তুলনায় বহুগুণ বড় দেখায়, যেখানে নিরক্ষরেখার কাছাকাছি দেশগুলো প্রায় ঠিক থাকে।
    সুতরাং, অক্ষরেখার দৈর্ঘ্যের এই অসামঞ্জস্যই গ্রিনল্যান্ডকে অস্বাভাবিক বড় দেখানোর মূল কারণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও