সাহিত্য পাঠ • তোমার আপন পতাকা
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
সোনালি ধানের মাঠ, কাজল দিঘি, নদীর কূলে কাশবনের হাসি আর পাখির কলতানে ভরা আমাদের বাংলাদেশ। এই অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ইতিহাসের নানা সময়ে বিদেশিরা এখানে এসেছে। কেউ এসেছে বাণিজ্যের নামে, কেউ এসেছে অস্ত্র হাতে। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত ইতিহাস পড়তে পড়তে ভাবে, এ দেশের সৌন্দর্যই কি তার ভাগ্যে বারবার দুর্ভোগ ডেকে এনেছে?
- ক)(1)
‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতাটি হাসান হাফিজুর রহমানের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
- খ)(2)
“যদিও রক্তক্ষয় তোমার সৌন্দর্য সেই অবিরত তোমারই হয়েছে কাল।”—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নুসরাতের ভাবনা ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতার কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“সৌন্দর্য ও সংগ্রাম—এই দুই অনুভবের মিলনে কবিতাটি সমৃদ্ধ।”—উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতাটি হাসান হাফিজুর রহমানের ‘যখন উদ্যত সঙ্গীন’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি বাংলাদেশকে বিশ্বের সেরা সুন্দরী বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু এই অপরূপ সৌন্দর্যই বাইরের শত্রুদের লোভ জাগিয়েছে। ফলে যুগে যুগে বিদেশি শক্তি এ দেশ আক্রমণ করেছে এবং বারবার রক্তক্ষয় ঘটেছে। এভাবে সৌন্দর্যই দেশের জন্য বিপদ ও লাঞ্ছনার কারণ হয়েছে। চরণটিতে সেই বেদনাময় সত্যই প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নুসরাতের ভাবনা ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতার সেই দিকটিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্যই শত্রুপক্ষকে আক্রমণে প্রলুব্ধ করেছে।
কবিতায় কবি বাংলার কাজল দিঘি, কোকিলের মধুঝরা স্বর, হরিৎ প্রান্তর, গিরিবর্ত্ম ও বঙ্গোপসাগরের রূপ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বের সেরা সুন্দরী বলে লুটেছ প্রবাদের খ্যাতি’, কিন্তু সেই সৌন্দর্য থেকেই রক্তক্ষয়ের কাল ঘনিয়েছে। লোভী আক্রমণকারীরা ‘আনন্দের ঝুমঝুমি’ বাজাতে এসে এ দেশকে মুঠোয় ভরতে চেয়েছে।
উদ্দীপকেও সোনালি ধানের মাঠ, কাজল দিঘি ও পাখির কলতানে ভরা বাংলাদেশের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বিদেশিদের আগমনের কথা আছে এবং নুসরাত ভাবে সৌন্দর্যই দুর্ভোগের কারণ কি না। তাই তার জিজ্ঞাসা কবিতার ওই দিকটিকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী ‘তোমার আপন পতাকা’ কবিতায় কবির সংগ্রামী অনুভবের পাশাপাশি আবহমান বাংলার অনিন্দ্যসুন্দর রূপের অনুভব ধরা পড়েছে; তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
কবিতায় সৌন্দর্যের অনুভব স্পষ্ট। কাজল দিঘি, কোকিলের স্বর, সবুজ প্রান্তর, পাহাড়ি পথ ও উচ্ছ্বসিত সমুদ্রের বর্ণনায় স্বদেশের রূপ ফুটেছে এবং সেই বৈচিত্র্যময় স্বদেশই স্বাধীন দেশের পতাকায় প্রতীকায়িত হয়েছে। উদ্দীপকে এই অনুভবই আছে; সেখানে সোনালি ধানের মাঠ, কাজল দিঘি ও পাখির কলতানে বাংলার সৌন্দর্যের বর্ণনা রয়েছে এবং সেই সৌন্দর্যে বিদেশিদের আকৃষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত আছে।
তবে উদ্দীপকে সংগ্রামের দিকটি নেই। কবিতায় ‘ক্রূর পদাতিক’, ‘অশ্বারোহী’ ও ‘বন্দুক কামান’-এর আগ্রাসনে বাংলার ক্ষতবিক্ষত হওয়া এবং তার বিপরীতে কারখানার শ্রমিক, কৃষক, কামার-কুমোর-তাঁতিরা মিলে ‘সাত কোটি সংশপ্তক’ হয়ে শত্রুকে প্রতিরোধ করার চিত্র আছে। এই প্রতিরোধের ফলেই শত্রুরা পালাতে বাধ্য হয়েছে এবং স্বদেশ মুক্ত হয়েছে।
সুতরাং উদ্দীপক কেবল সৌন্দর্যের অনুভবটুকু ধারণ করেছে, আর কবিতায় সৌন্দর্যের বন্দনা ও মুক্তির সংগ্রাম মিলে পূর্ণতা পেয়েছে। তাই দুই অনুভবের মিলনে কবিতাটি সমৃদ্ধ—মন্তব্যটি সঠিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও