জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • শৈবাল ও ছত্রাক

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

রহিম সাহেবের ধানক্ষেতে গত কয়েক বছর ধরে ইউরিয়া সার কম লাগছে, কারণ ক্ষেতের পানিতে Nostoc ও Anabaena জাতীয় শৈবাল জন্মায়। অন্যদিকে তাঁর পুকুরে অতিরিক্ত সার ও খাবার দেওয়ার ফলে একসময় পুকুরের পানির ওপর নীলাভ-সবুজ স্তর পড়ল, পানি দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে গেল এবং অনেক মাছ মারা গেল।

  1. ক)

    ওয়াটার ব্লুম কী?

    (1)
  2. খ)

    শৈবালকে second generation biofuel বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রহিম সাহেবের ধানক্ষেতে ইউরিয়া সার কম লাগার কারণ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রহিম সাহেবের পুকুরের ঘটনাটির কারণ ও ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পুকুর বা জলাধারে পুষ্টির পরিমাণ বেড়ে গেলে কিছু নীলাভ-সবুজ শৈবালের (সায়ানোব্যাকটেরিয়া) সংখ্যা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়ে যে স্তর সৃষ্টি করে, তাকে ওয়াটার ব্লুম বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বর্তমানে বায়োফুয়েল বা বায়োডিজেল তৈরির জন্য শৈবালকে বেছে নেওয়া হয়েছে। Botryococcus braunii শৈবাল এ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, এবং Chlorella ও Scenedesmus-কেও ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। শৈবাল দ্রুত বৃদ্ধি পায় ও জ্বালানি তেল উৎপাদনে সক্ষম। এজন্য শৈবালকে second generation biofuel বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের Nostoc ও Anabaena নীলাভ-সবুজ শৈবাল (সায়ানোব্যাকটেরিয়া)। এরা বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেনকে সংবন্ধন করে মাটিতে নাইট্রোজেনযুক্ত যৌগ যোগ করে। এদের দেহে হেটেরোসিস্ট নামক বিশেষ কোষ থাকে, যা মুক্ত নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সক্ষম। এভাবে ধানক্ষেতের মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বাড়ে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। ফলে ধানগাছ প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন এসব শৈবাল থেকেই পায় এবং ইউরিয়া সারের প্রয়োগ অনেক কমে যায়। একইভাবে ধানক্ষেতে Azolla-র ভেতরে থাকা Anabaena azollae নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের পুকুরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি হলো ওয়াটার ব্লুম (Water bloom)। কারণ: পুকুরে অতিরিক্ত সার ও খাবার দেওয়ায় পানিতে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এই অনুকূল পরিবেশে Oscillatoria, Nostoc, Microcystis জাতীয় নীলাভ-সবুজ শৈবাল অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়ে পানির ওপর স্তর তৈরি করে। ফলাফল: ১. পুকুরের পানি দূষিত হয় এবং দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে খাবার ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়। ২. পানির ওপর স্তর পড়ায় আলো ও অক্সিজেনের প্রবেশ কমে যায়, ফলে মাছ মারা যায়, যা উদ্দীপকে দেখা গেছে। ৩. এতে মাছ চাষে আর্থিক ক্ষতি হয়। সুতরাং পুকুরে অতিরিক্ত সার বা খাবার না দেওয়াই এ ঘটনা প্রতিরোধের উপায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও