তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও আমাদের বাংলাদেশ
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার একটি স্কুলে পদার্থবিজ্ঞানের দক্ষ শিক্ষক নেই এবং ল্যাবরেটরিও অপ্রতুল। ফলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সূর্যগ্রহণ ও বিভিন্ন পরীক্ষণ বইয়ের ছবি দেখে শেখে। প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘শহরের দক্ষ শিক্ষকদের পাঠদানের ভিডিও আর মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করলে সমস্যার সমাধান হবে, তবে সব দায়িত্ব এর ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না।’
- ক)(1)
ই-লার্নিং কী?
- খ)(2)
ই-লার্নিংয়ে শিক্ষার্থীদের বেশি উদ্যোগী হতে হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের স্কুলের সমস্যাগুলো সমাধানে ই-লার্নিং কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘সব দায়িত্ব এর ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না’— প্রধান শিক্ষকের এই মন্তব্যের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইলেকট্রনিক লার্নিং বা ই-লার্নিং হলো সিডি রম, ইন্টারনেট, ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক কিংবা টেলিভিশন চ্যানেল ব্যবহার করে পাঠদান করার পদ্ধতি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রচলিত পাঠদানে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সরাসরি দেখেন, কথা বলেন এবং প্রশ্নের উত্তর দেন। ই-লার্নিংয়ে এই মানবিক অংশটুকু প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে। শিক্ষার্থী প্রশ্ন করলেই সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য পায় না, সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগও কম থাকে। তাই নিজের আগ্রহ ও উদ্যোগে শিখতে হয়। এ কারণে ই-লার্নিংয়ে শিক্ষার্থীদের বেশি উদ্যোগী হতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের স্কুলে দক্ষ শিক্ষক ও ল্যাবরেটরির অভাব রয়েছে, ফলে সূর্যগ্রহণের মতো বিষয় হাতে-কলমে দেখানো যায় না। ই-লার্নিং এ সমস্যা সমাধানে নিচের ভূমিকা রাখতে পারে। ১. দক্ষ শিক্ষকদের পাঠদান ভিডিও করে অসংখ্য স্কুলে বিতরণ করা যায়। এতে হাওরের স্কুলও দক্ষ শিক্ষকের পাঠ পায়। ২. মাল্টিমিডিয়ার সাহায্যে সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ বা পরীক্ষণের দৃশ্য ও ইন্টারঅ্যাকটিভ উপস্থাপন করা যায়। ৩. শিক্ষক নিজে সহায়ক শিখনসামগ্রী তৈরি করে বারবার ব্যবহার করতে পারেন। ফলে শিক্ষা উপকরণ ও ল্যাবরেটরির অভাব অনেকটা পূরণ হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রধান শিক্ষক যে ই-লার্নিংয়ের কথা বলেছেন, তা প্রচলিত পাঠদানের বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক। তাই তাঁর মন্তব্য যথার্থ। ১. প্রচলিত শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সরাসরি দেখতে ও তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর পায়। ই-লার্নিংয়ে এ সুযোগ সীমিত। ২. শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা একে অন্যকে সাহায্য করে এবং সহযোগী হয়ে শেখে। ই-লার্নিংয়ে এই বিষয়গুলো প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে। মানবিক অংশের অভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে যান্ত্রিক মনে হতে পারে। ৩. ই-লার্নিংয়ের জন্য ইন্টারনেটের গতি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও শিখনসামগ্রী সহজলভ্য থাকা দরকার, হাওর এলাকায় যা সব সময় নিশ্চিত নয়। ৪. তবে ই-লার্নিং সূর্যগ্রহণের মতো বিষয় বোঝানো এবং দক্ষ শিক্ষকের অভাব পূরণে সহায়ক। সুতরাং ই-লার্নিংকে প্রচলিত পাঠদানের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করাই সঠিক। প্রধান শিক্ষকের মন্তব্য তাই যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও