বাংলা ১ম পত্র • জুতা-আবিষ্কার

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

একটি শহরে মশার উপদ্রব বেড়ে গেলে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক করেন। তাঁরা সারা শহরে প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক ছিটানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফলে মশা কিছুটা কমলেও পুকুর-ডোবার মাছ মরে যায়, বাতাসে দূষণ বাড়ে এবং অনেক মানুষ শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকে। শেষে এক প্রবীণ রিকশাচালক পরামর্শ দেন, “নালা-নর্দমা আর জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখলেই মশা জন্মাবে না।”

  1. ক)

    কত লক্ষ ভিস্তি মশক কাঁখে ছুটে এসেছিল?

    (1)
  2. খ)

    “ধুলার মাঝে না যদি দেন পা / তা হলে পায়ে ধুলা তো লাগে না”— কথাটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কর্মকর্তাদের কাজে ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের রিকশাচালক ও ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতার চামার-কুলপতির ভূমিকা অভিন্ন”— মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর একুশ লক্ষ ভিস্তি মশক কাঁখে ছুটে এসেছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাজার পায়ে ধুলা না লাগানোর উপায় খুঁজতে গিয়ে সভাসদদের একজন প্রস্তাব দেন যে, রাজা যদি ধুলোয় পা না ফেলেন তবে পায়ে ধুলা লাগবে না। কথাটি যুক্তির দিক থেকে সত্য, কিন্তু বাস্তবে অচল। এতে রাজাকে ঘরে বন্দি রাখতে হতো এবং রাজ্য অচল হয়ে পড়ত। সভাসদদের বুদ্ধি যে সমস্যার সরল সমাধান না দিয়ে অদ্ভুত পথ খোঁজে, এ কথায় তা-ই ফুটে উঠেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কর্মকর্তাদের কাজে ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতার ভুল ও অতিরিক্ত পদ্ধতিতে সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় নতুন সংকট সৃষ্টির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। কবিতায় রাজার আদেশে মন্ত্রী ও পণ্ডিতেরা ধুলা দূর করতে সাড়ে সতেরো লক্ষ ঝাঁটা কেনেন, ফলে সারা নগর ধুলায় ঢেকে যায়। পরে ভিস্তিরা পানি ঢেলে দিলে ধুলা কাদা হয়ে ওঠে, পুকুর-বিল শুকিয়ে যায় এবং জলের প্রাণী মারা পড়ে। উদ্দীপকেও কর্মকর্তারা প্রচুর কীটনাশক ছিটিয়ে মশা কমাতে গিয়ে মাছ মেরে ফেলেন, বাতাস দূষিত করেন এবং মানুষের কষ্ট বাড়ান। দুই ক্ষেত্রেই সমাধানের উদ্যোগ নিজেই নতুন সমস্যার জন্ম দিয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি মূলত যথার্থ, তবে পুরোপুরি অভিন্ন নয়। ১. সাধারণ মানুষের সরল সমাধান: কবিতায় বিদ্বান পণ্ডিতেরা যা পারেননি, বৃদ্ধ চামার-কুলপতি তা পেরেছেন। তিনি রাজাকে বলেন, ‘নিজের দুটি চরণ ঢাকো, তবে ধরণী আর ঢাকিতে নাহি হবে।’ উদ্দীপকের রিকশাচালকও বিশেষজ্ঞদের জটিল পদ্ধতির বদলে নালা-নর্দমা ও জমা পানি পরিষ্কার রাখার সহজ পরামর্শ দেন। ২. সমস্যার মূলে আঘাত: দুজনেই সমস্যার মূল কারণ বুঝে সহজ উপায় বের করেছেন। পুরো ধরণী না ঢেকে পা ঢাকা এবং সারা শহরে বিষ না ছিটিয়ে মশার জন্মস্থান পরিষ্কার করা একই চিন্তার ফল। ৩. পার্থক্য: চামার-কুলপতি কেবল পরামর্শই দেননি, রাজার পা চামড়া দিয়ে ঢেকে হাতেনাতে সমাধান করে দেখিয়েছেন এবং জুতার জন্ম দিয়েছেন। রিকশাচালক কেবল পরামর্শ দিয়েছেন। সুতরাং ভূমিকায় সাদৃশ্য থাকলেও কর্মের পরিধিতে সামান্য পার্থক্য আছে, তবে মূল ভাবের দিক থেকে মন্তব্যটি সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও