ইতিহাস ২য় পত্র • শিল্পবিপ্লব
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
সোনাপুর রাজ্যের অভিজাতরা পৈতৃক জমিদারি নিয়েই গর্ব করত এবং শিল্প ও ব্যবসার কাজকে ঘৃণা করত। ধনী ব্যবসায়ীদের সমাজে কোনো মর্যাদা ছিল না। দেশে কয়লার জোগান কম এবং মূলধনের ঘাটতি ছিল। বহু বছর পর নতুন শাসক শিল্প ব্যাংক স্থাপন করেন, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বসিয়ে দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করেন এবং রেলপথের প্রসার ঘটান। ফলে দেশে শিল্পের গতি বাড়ে।
- ক)(1)
ফ্রান্সে যন্ত্র দ্বারা বস্ত্রশিল্প তৈরি কত খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়?
- খ)(2)
ফ্রান্সের কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ব্রিটেনের মতো ছিল না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সোনাপুরের শিল্প বিকাশের প্রাথমিক প্রতিবন্ধকতাগুলো ফ্রান্সে শিল্পবিপ্লব বিলম্বিত হওয়ার কোন কারণগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের নতুন শাসকের পদক্ষেপগুলো ফ্রান্সের তৃতীয় নেপোলিয়নের শিল্প প্রসারের পদক্ষেপের সাথে কতটা সংগতিপূর্ণ? মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফ্রান্সে যন্ত্র দ্বারা বস্ত্রশিল্প তৈরি ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্রিটেনে বেষ্টনী আন্দোলনের মাধ্যমে বৃহৎ পুঁজিবাদী খামার গড়ে ওঠে, ফলে কৃষিতে দ্রুত উৎপাদন বাড়ে। কিন্তু ফরাসি বিপ্লবের পর ফ্রান্সে বৃহৎ খামার ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষেতে পরিণত করা হয় এবং কৃষকদের মালিকানা দিয়ে আবাদ করার প্রবণতা দেখা যায়। ক্ষুদ্র জোতে আধুনিক পদ্ধতিতে বেশি উৎপাদন সম্ভব হয়নি। তাই ব্রিটেনের মতো দ্রুত কৃষি উৎপাদন ফ্রান্সে ঘটেনি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সোনাপুরের প্রতিবন্ধকতাগুলো অষ্টাদশ শতকের ফ্রান্সের সামাজিক পরিবেশ, কয়লার সীমাবদ্ধতা ও মূলধনের ঘাটতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফ্রান্সের অভিজাতরা ছিল রক্ষণশীল ও কায়িক শ্রমবিমুখ। তারা শিল্প-বাণিজ্যকে ঘৃণা করত এবং সামন্তপ্রথার দরুন পৈতৃক জমিদারির অধিকারকেই সম্মানজনক মনে করত। উদ্দীপকের অভিজাতদের মনোভাবও তদ্রূপ। ফ্রান্সের বুর্জোয়া ও ধনী ব্যবসায়ীদের সামাজিক মর্যাদা ছিল না, তারা কৃষক-শ্রমিকের সমতুল্য গণ্য হতো। উদ্দীপকেও ধনী ব্যবসায়ীদের মর্যাদাহীনতার কথা আছে। এছাড়া শিল্প-কারখানা চালু রাখার জন্য প্রচুর কয়লা প্রয়োজন হলেও ফ্রান্সে কয়লার সরবরাহ সীমিত ছিল এবং মূলধনের ঘাটতি ছিল, যা উদ্দীপকের কয়লা ও মূলধনের অভাবের সাথে মিলে যায়। এসব কারণেই ফ্রান্সে শিল্পবিপ্লব বিলম্বিত হয়েছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নতুন শাসকের পদক্ষেপগুলো ফ্রান্সের তৃতীয় নেপোলিয়নের (১৮০৮-১৮৭০) শিল্প প্রসারের পদক্ষেপের সাথে প্রায় পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।
১. শিল্প ব্যাংক স্থাপন: তৃতীয় নেপোলিয়ন ফ্রান্সে শিল্প ব্যাংক স্থাপন করে শিল্পপতিদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেন, ফলে মূলধনের ঘাটতি কমে। উদ্দীপকের শাসকও শিল্প ব্যাংক স্থাপন করেছেন।
২. রক্ষণনীতি: নেপোলিয়ন বিদেশি দ্রব্যের ওপর শুল্ক চাপিয়ে দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করেন। উদ্দীপকে শাসক একইভাবে বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বসিয়েছেন।
৩. রেলপথের প্রসার: ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের পর রেলপথের প্রসার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এলে ফ্রান্সে শিল্পে গতিশীলতা আসে। এ সময় রেলপথ ১০ হাজার মাইলে দাঁড়ায় এবং কয়লা ও লোহার উৎপাদন বাড়ে। উদ্দীপকেও রেলপথ প্রসারের ফলে শিল্পের গতি বেড়েছে।
৪. পার্থক্য ও সীমাবদ্ধতা: তবে উদ্দীপকে সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তন বা কয়লা সমস্যার সমাধানের উল্লেখ নেই। ফ্রান্সে ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের জার্মানি যুদ্ধের পর শিল্প ও খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চল হাতছাড়া হওয়ায় অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছিল। এছাড়া ফ্রান্সের কৃষি ব্রিটেনের মতো বৃহৎ খামারভিত্তিক হয়নি।
উপসংহার: মূল পদক্ষেপগুলোর বিচারে উদ্দীপকের শাসক ও তৃতীয় নেপোলিয়নের নীতি অনেকটাই অভিন্ন। তাই ফ্রান্সে তাঁর শাসনামলে শিল্পবিপ্লবের স্বর্ণযুগ শুরু হওয়ার মতোই উদ্দীপকের দেশেও শিল্পের গতি বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও