সাহিত্য পাঠ • তাজমহল

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

রহিম মিয়া রিকশাচালক। তাঁর স্ত্রী সালেহা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত। টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে পারেন না। প্রতিদিন তিনি রিকশায় করে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যান, পাশে বসে সারাক্ষণ সেবা করেন। অন্যরা বিরক্ত হলেও রহিম মিয়া নির্বিকার। ডাক্তার জানিয়ে দিয়েছেন সালেহা আর বাঁচবেন না, তবুও রহিম মিয়ার সেবায় কোনো ঘাটতি নেই।

  1. ক)

    বৃদ্ধ লোকটি তার বেগমকে কীভাবে ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছিল?

    (1)
  2. খ)

    “বৃদ্ধ কিন্তু নির্বিকার। দিবারাত্র সেবা করে চলেছে।”—কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রহিম মিয়া ও ‘তাজমহল’ গল্পের বৃদ্ধের মধ্যে সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “ফকির শাহজাহানের প্রেম সম্রাট শাহজাহানের প্রেমের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়”—‘তাজমহল’ গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বৃদ্ধ লোকটি তার বেগমকে একটি বড় বুড়িতে বসিয়ে পিঠে বেঁধে ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বৃদ্ধ তার বেগমকে গভীরভাবে ভালোবাসত। বেগমের মুখের আধখানা পচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়ালেও তার কাছে সেটি বিরক্তির কারণ ছিল না। কম্পাউন্ডার, ড্রেসার, এমনকি মেথর পর্যন্ত কাছে যেতে রাজি হয়নি, কিন্তু বৃদ্ধের কাছে স্ত্রীর সেবাই ছিল প্রধান। গভীর প্রেম ও কর্তব্যবোধ থেকেই সে নির্বিকারভাবে দিনরাত সেবা করে যাচ্ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রহিম মিয়া ও ‘তাজমহল’ গল্পের বৃদ্ধ উভয়েই গরিব হয়েও মরণাপন্ন স্ত্রীর প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। গল্পের বৃদ্ধ ক্যান্সার অরিসে আক্রান্ত বেগমকে পিঠে বয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং ডাক্তারের কাছে ‘ফি’ দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় দয়া ভিক্ষা করে। দুর্গন্ধের কারণে সবাই দূরে সরে গেলেও সে দিনরাত সেবা করে। রহিম মিয়াও দারিদ্র্য সত্ত্বেও প্রতিদিন স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং অন্যদের বিরক্তি উপেক্ষা করে সেবা চালিয়ে যান। ডাক্তার জানিয়ে দিলেও বাঁচার আশা নেই, তবু রহিম মিয়া সেবা ছাড়েননি; গল্পের বৃদ্ধও ডাক্তারের ‘না’ শুনে চুপ করে ছিল কিন্তু ভালোবাসা ত্যাগ করেনি। এ বিষয়গুলোতেই দুজনের সাদৃশ্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সম্রাট শাহজাহান স্ত্রী মমতাজের স্মৃতিতে বিপুল সম্পদ ব্যয় করে বিশ্বখ্যাত তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন। অন্যদিকে গল্পের ফকির শাহজাহান নিতান্ত গরিব। তার সম্পদ বলতে কিছুই নেই, তবু সে পিঠে বয়ে স্ত্রীকে হাসপাতালে আনে, দিবারাত্র সেবা করে, বৃষ্টিতে নিজে ভিজে চাদরের ছাউনি ধরে রাখে এবং স্ত্রীর মৃত্যুর পর ভাঙা ইট ও কাদা দিয়ে নিজ হাতে কবর গাঁথে। এসবের মধ্য দিয়ে তার ভালোবাসার গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়।

    সম্রাটের প্রেমের প্রকাশ ঘটেছে ঐশ্বর্যে, আর ফকিরের প্রেমের প্রকাশ ঘটেছে ত্যাগ ও সেবায়। উদ্দীপকের রহিম মিয়াও সম্পদ নেই বলে ভালোবাসাহীন নন; স্ত্রীর সেবাই তাঁর ভালোবাসার প্রমাণ। এতে বোঝা যায়, প্রেমের মহত্ত্ব ঐশ্বর্যের ওপর নির্ভর করে না।

    সুতরাং ফকির শাহজাহানের প্রেম, আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, আন্তরিকতা ও আত্মত্যাগে সম্রাটের প্রেমের সমকক্ষ। উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও