জীববিজ্ঞান • গ্যাসীয় বিনিময়
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
করিম সাহেব একটি কলকারখানার ধুলাময় ও ধোঁয়াপূর্ণ পরিবেশে ২৫ বছর ধরে কাজ করছেন এবং দীর্ঘদিন ধূমপান করেন। গত দুই বছর ধরে প্রতি শীতে তিনি টানা তিন মাসের বেশি কফসহ কাশিতে ভোগেন। কাশির সময় তাঁর বুকে প্রচণ্ড ব্যথা হয় এবং তিনি শক্ত খাবার খেতে পারেন না। তাঁর বাড়ির শিশু ও বয়স্কদেরও ঠান্ডা লাগলে একই রকম সমস্যা হয়।
- ক)(1)
ব্রঙ্কাস কী?
- খ)(2)
ব্রংকাইটিস রোগে শিশু ও বয়স্কদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
করিম সাহেবের রোগটি কী কারণে হতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
করিম সাহেবের রোগটি যাতে আর না বাড়ে এবং বাড়ির শিশু ও বয়স্করা এ রোগ থেকে রক্ষা পান, সেজন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শ্বাসনালি ফুসফুসের কাছে গিয়ে ডান ও বাম দিকে যে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে দুই ফুসফুসে প্রবেশ করে, সেগুলোকে ব্রঙ্কাস (বহুবচনে ব্রঙ্কাই) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্রংকাইটিস হলে শ্বাসনালির ভেতরের ঝিল্লিতে প্রদাহ হয়। শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। একবার এ রোগ হলে বারবার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া ঠান্ডা লাগলেও এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শিশু ও বয়স্কদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর করিম সাহেবের লক্ষণ থেকে বোঝা যায় তিনি ক্রনিক ব্রংকাইটিসে ভুগছেন। কারণ একটানা কমপক্ষে ৩ মাস কাশির সাথে কফ থাকা এবং পরপর ২ বছর এমন হওয়া ক্রনিক ব্রংকাইটিসের লক্ষণ।
এ রোগের কারণগুলো হলো: ১. ধূমপান; করিম সাহেব দীর্ঘদিন ধূমপান করেন। ২. কলকারখানার ধুলাবালি ও ধোঁয়াময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করা। ৩. ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে শ্বাসনালির ঝিল্লিগাত্রে প্রদাহ। ৪. স্যাঁতসেঁতে ধূলিকণা মিশ্রিত আবহাওয়া ও ঠান্ডা লাগা।
ধূমপান ও কারখানার দূষিত পরিবেশ—এ দুটিই করিম সাহেবের রোগের প্রধান কারণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর করিম সাহেবের রোগ ব্রংকাইটিস। এর প্রতিকার ও প্রতিরোধে নিচের ব্যবস্থাগুলো নেওয়া উচিত।
করিম সাহেবের জন্য প্রতিকার: ১. ধূমপান, মদ্যপান, তামাক বা সাদাপাতা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। ২. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করানো। ৩. সহনীয় উষ্ণতা ও শুষ্ক পরিবেশে থাকা এবং পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়া। ৪. গরম দুধ, স্যুপ ইত্যাদি পুষ্টিকর তরল ও গরম খাবার খাওয়া।
সবার জন্য প্রতিরোধ: ৫. ধুলাবালি ও ধোঁয়াপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা থেকে বিরত থাকা বা কাজের সময় মাস্ক ব্যবহার করা। ৬. শিশু ও বয়স্কদের যেন মাথায় ঠান্ডা না লাগে সেদিকে লক্ষ রাখা। ৭. ধূমপানের মতো বদ অভ্যাস ত্যাগ করা এবং বাড়িতে ধূমপান না করা।
এসব ব্যবস্থা মেনে চললে করিম সাহেবের রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং বাড়ির শিশু ও বয়স্করা ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও