জীববিজ্ঞান • গ্যাসীয় বিনিময়

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক দুটি টেস্টটিউবে সমপরিমাণ স্বচ্ছ চুনের পানি নিলেন। একটিতে সিরিঞ্জের সাহায্যে সাধারণ বায়ু চালনা করলেন এবং অন্যটিতে নল দিয়ে নিজের নিঃশ্বাস ছাড়লেন। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল, দ্বিতীয় টেস্টটিউবের চুনের পানি ঘোলা হয়ে গেছে, প্রথমটির কোনো পরিবর্তন হয়নি। শিক্ষক বললেন, ‘শরীরে এই গ্যাসটি কোষে উৎপন্ন হয়ে রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে আসে এবং বাইরে বের হয়ে যায়।’

  1. ক)

    শ্বাসকার্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অক্সিহিমোগ্লোবিনকে অস্থায়ী যৌগ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    শিক্ষকের পরীক্ষায় দ্বিতীয় টেস্টটিউবের চুনের পানি ঘোলা হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    শিক্ষকের মন্তব্যে উল্লিখিত গ্যাসটি কোষ থেকে দেহের বাইরে বের হওয়ার প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিষ্কাশন করা হয়, তাকে শ্বাসকার্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফুসফুসে রক্তে প্রবেশ করা অক্সিজেনের বেশির ভাগ হিমোগ্লোবিনের লৌহ অংশের সাথে হালকা বন্ধনে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে। রক্ত কৈশিকনালিকায় পৌঁছালে এই যৌগ সহজেই ভেঙে মুক্ত অক্সিজেন ও হিমোগ্লোবিনে পরিণত হয়। বন্ধন হালকা ও সহজে বিচ্ছিন্ন হয় বলে অক্সিহিমোগ্লোবিনকে অস্থায়ী যৌগ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নিঃশ্বাস বায়ুতে সাধারণ বাতাসের তুলনায় কার্বন ডাই-অক্সাইড অনেক বেশি থাকে। দ্বিতীয় টেস্টটিউবে নিঃশ্বাস বায়ু চালনা করায় এই CO₂ চুনের পানির (ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড) সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি করে। এই অদ্রবণীয় পদার্থের কারণে চুনের পানি ঘোলা হয়ে দুধের মতো রং ধারণ করে।
    প্রথম টেস্টটিউবে সাধারণ বায়ুতে CO₂-এর পরিমাণ খুব কম থাকায় চুনের পানিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিক্ষকের মন্তব্যে উল্লিখিত গ্যাসটি কার্বন ডাই-অক্সাইড। কোষ থেকে দেহের বাইরে এর নির্গমন প্রক্রিয়া নিচে ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করা হলো।
    ১. উৎপত্তি: কোষে খাদ্য জারণের সময় CO₂ তৈরি হয়। শ্বসনের সরল বিক্রিয়া: C6H12O6+6O2→6CO2+6H2O+ATPC_6H_{12}O_6 + 6O_2 \rightarrow 6CO_2 + 6H_2O + ATP।
    ২. কোষ থেকে রক্তে: এই CO₂ প্রথমে কোষ আবরণ ভেদ করে আন্তঃকোষীয় তরল ও লসিকায় প্রবেশ করে। সেখান থেকে কৈশিকনালির প্রাচীর ভেদ করে রক্তরসে যায়।
    ৩. রক্তে পরিবহন: CO₂ প্রধানত সোডিয়াম বাইকার্বোনেট (NaHCO3NaHCO_3) রূপে রক্তরসের মাধ্যমে এবং পটাশিয়াম বাইকার্বোনেট (KHCO3KHCO_3) রূপে লোহিত রক্তকণিকার মাধ্যমে ফুসফুসে আসে।
    ৪. ফুসফুস থেকে নির্গমন: ফুসফুসে এসে CO₂ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কৈশিকনালি ও বায়ুধলির পাতলা প্রাচীর ভেদ করে বায়ুধলিতে যায়।
    ৫. দেহের বাইরে: নিঃশ্বাসের সময় মধ্যচ্ছদা প্রসারিত হয়ে ফুসফুসের বায়ুর চাপ বাড়ায়, ফলে CO₂ ও জলীয় বাষ্পসমৃদ্ধ বায়ু নাসাপথ দিয়ে বাইরে বের হয়ে যায়।
    এভাবে কোষ থেকে CO₂ দেহের বাইরে নির্গত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও