বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

নবম শ্রেণির ছাত্র রাফি বিজ্ঞান মেলায় একটি অন্ধকার ঘরে টেবিলের ওপর জ্বলন্ত মোমবাতি রাখে এবং তার সামনে একটি ভূগোলক ধীরে ধীরে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘোরায়। সে দেখে, ভূগোলকের মোমবাতির দিকের অংশ আলোকিত এবং বিপরীত অংশ অন্ধকার থাকছে। ঘোরানোর সময় আলো ও অন্ধকারের মাঝের বৃত্তাকার অংশ পার হয়ে কোনো স্থান আলোতে আসছে, আবার কোনো স্থান অন্ধকারে চলে যাচ্ছে।

  1. ক)

    আহ্নিক গতি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    প্রভাত ও সন্ধ্যা কীভাবে হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রাফির পরীক্ষায় ভূগোলকের একাংশ আলোকিত ও অন্য অংশ অন্ধকার থাকার কারণ পৃথিবীর ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আহ্নিক গতি না থাকলে মানুষের জীবনযাত্রা ও প্রকৃতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়ত? পৃথিবীর জন্য এ গতির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পৃথিবী নিজ অক্ষ বা মেরুরেখার ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে যে আবর্তন করছে, তাকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পৃথিবীর আলোকিত ও অন্ধকার অংশের মধ্যবর্তী বৃত্তাকার অংশকে ছায়াবৃত্ত বলে। আবর্তনের ফলে পৃথিবীর যে অংশ অন্ধকার থেকে ছায়াবৃত্ত পার হয়ে সবেমাত্র আলোকিত অংশে পৌঁছায়, সেখানে প্রভাত হয়। আবার যে অংশ আলো থেকে ছায়াবৃত্ত পার হয়ে সবেমাত্র অন্ধকারে পৌঁছায়, সেখানে সন্ধ্যা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে মোমবাতি সূর্যের এবং ভূগোলক পৃথিবীর প্রতীক। পৃথিবীর নিজস্ব আলো নেই, সূর্যের আলোতে এটি আলোকিত হয়। পৃথিবী গোলাকার বলে সূর্যের আলো একই সময়ে ভূপৃষ্ঠের সকল অংশে পড়ে না। ফলে সূর্যের দিকে থাকা অর্ধাংশ আলোকিত হয়, আর বিপরীত অর্ধাংশ অন্ধকার থাকে।

    পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রায় ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তন করে। আবর্তনের সময় যে অংশ সূর্যের সামনে আসে সেখানে দিন হয় এবং যে অংশ সূর্যের আড়ালে চলে যায় সেখানে রাত হয়। রাফির ভূগোলক ঘোরালে একইভাবে আলোকিত অংশে দিন এবং অন্ধকার অংশে রাত বোঝায়। এভাবে আহ্নিক গতির ফলে দিন-রাত সংঘটিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আহ্নিক গতি পৃথিবীর জন্য বহুমুখী গুরুত্ব বহন করে।

    প্রথমত, এ গতির ফলে দিন ও রাত হয়। আহ্নিক গতি না থাকলে পৃথিবীর একই অংশে সবসময় দিন এবং অন্য অংশে সবসময় রাত থাকত। একদিকে প্রচণ্ড গরম ও অন্যদিকে প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকায় প্রাণীর বসবাস কঠিন হতো।

    দ্বিতীয়ত, পৃথিবীর একটি পূর্ণ আবর্তনকে ২৪ ঘণ্টা ধরে মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে সময় গণনা করা হয়। এ গতি না থাকলে দৈনন্দিন সময় গণনা ও স্থানীয় সময় নির্ণয় সম্ভব হতো না।

    তৃতীয়ত, আহ্নিক গতির ফলে চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়। জোয়ার-ভাটা না হলে নদীর মোহনায় পলি জমে মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারত এবং বন্দরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতো।

    চতুর্থত, আহ্নিক গতি সমুদ্রস্রোত ও বায়ুপ্রবাহের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।

    সুতরাং আহ্নিক গতি পৃথিবীতে জীবজগতের বসবাস, সময় গণনা এবং প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও