জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • প্রাণীর আচরণ
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর মিতা মোমবাতি জ্বালাল। মোমবাতির আলোর দিকে একটি ঘাসফড়িং উড়ে এল, আর রান্নাঘরের আরশোলাটি আলো দেখে দ্রুত অন্ধকার কোণে সরে গেল। পরদিন বৃষ্টির পর উঠানের ভেজা মাটিতে সে অনেক কেঁচো দেখতে পেল। মিতার দাদা বললেন, এসব আচরণের পেছনে কোনো শিক্ষা নেই, এগুলো প্রাণীর সহজাত আচরণ।
- ক)(1)
ট্যাক্সিস কাকে বলে?
- খ)(2)
আরশোলার আলোর প্রতি সাড়াকে ঋণাত্মক ফটোট্যাক্সিস বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ঘাসফড়িং ও কেঁচোর আচরণে কোন কোন ট্যাক্সিস প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মিতার দাদার মন্তব্যের যথার্থতা ট্যাক্সিসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও অভিযোজনিক গুরুত্বের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাইরের উদ্দীপকের প্রভাবে দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সক্রিয় সঞ্চালনের মাধ্যমে প্রাণীর অবস্থানের পরিবর্তন ঘটলে তাকে ট্যাক্সিস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফটোট্যাক্সিস হলো আলোক উদ্দীপকের প্রতি প্রাণীর প্রতিক্রিয়া। আরশোলা আলো জ্বললে উদ্দীপকের উৎস অর্থাৎ আলো থেকে দূরে সরে অন্ধকার স্থানে চলে যায়। প্রাণী উদ্দীপকের উৎস থেকে দূরে সরে গেলে তাকে ঋণাত্মক ট্যাক্সিস বলে। তাই আরশোলার এই আচরণকে ঋণাত্মক ফটোট্যাক্সিস বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১. ঘাসফড়িং: মোমবাতির আলোর দিকে ঘাসফড়িংয়ের উড়ে আসা ধনাত্মক ফটোট্যাক্সিসের উদাহরণ। আলোক উদ্দীপকের প্রতি প্রাণীর প্রতিক্রিয়াকে ফটোট্যাক্সিস বলে এবং প্রাণী যখন উদ্দীপকের উৎসের দিকে গমন করে তখন তা ধনাত্মক হয়। ২. কেঁচো: ভেজা মাটিতে কেঁচোর বসবাস করা হাইড্রোট্যাক্সিসের উদাহরণ। পানি বা আর্দ্রতা উদ্দীপকের প্রতি প্রাণীর প্রতিক্রিয়াকে হাইড্রোট্যাক্সিস বলে। কেঁচো পানির উৎস অর্থাৎ ভেজা মাটির দিকে যায় বলে এটি ধনাত্মক হাইড্রোট্যাক্সিস।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মিতার দাদার মন্তব্য যথার্থ। ট্যাক্সিস প্রাণীর সহজাত আচরণের একটি উদাহরণ। ১. বৈশিষ্ট্যের বিচারে: ট্যাক্সিস শিক্ষালব্ধ আচরণ নয়; এটি বাহ্যিক উদ্দীপক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং এতে সংবেদী অঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জীব নিজে একে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং এর গতি দ্রুত। উদ্দীপকের আরশোলা, ঘাসফড়িং ও কেঁচো কাউকে না শিখিয়েই উদ্দীপকের উৎসের সাথে সম্পর্ক রেখে তাদের দেহের অবস্থান বদলেছে। ২. অভিযোজনিক গুরুত্বের বিচারে: উদ্দীপনায় যথাসময়ে সঠিক সাড়া দিয়ে প্রাণী আহার সংগ্রহ, শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা ও বংশবৃদ্ধি করে টিকে থাকে। আরশোলা অন্ধকারে সরে গিয়ে শত্রুর চোখ এড়ায় এবং কেঁচো ভেজা মাটিতে থেকে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে। ঘাসফড়িং আলোর দিকে গিয়ে অনুকূল পরিবেশে পৌঁছে। অতএব, এই আচরণগুলো শিক্ষণ নয়, জিনগতভাবে প্রাপ্ত সহজাত অভিযোজিত আচরণ; দাদার মন্তব্য তাই সঠিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও