সাহিত্য পাঠ • বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত কলেজ ম্যাগাজিনের জমা দেওয়ার শেষ দিনে রাতারাতি একটি কবিতা লিখে জমা দেয়। ছাপা হওয়ার পর দেখা গেল তাতে বানান ও ছন্দের বহু ভুল রয়ে গেছে। তার বড়বোন নাজমা একজন ঔপন্যাসিক। তিনি নতুন উপন্যাসটি লিখে প্রায় দুই বছর সরিয়ে রাখেন, তারপর নতুন চোখে পড়ে সংশোধন করে প্রকাশ করেন। উপন্যাসটি পাঠকমহলে প্রশংসিত হয়।
- ক)(1)
কাব্য, নাটক ও উপন্যাস কত বছর ফেলে রেখে সংশোধন করলে বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে?
- খ)(2)
“এজন্য সাময়িক সাহিত্য, লেখকের পক্ষে অবনতিকর”— কেন বলা হয়েছে?
- গ)(3)
নাজমার কাজের যৌক্তিকতা ‘বাংলার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নুসরাত ভবিষ্যতে ভালো লিখতে চায়। ‘বাংলার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের আলোকে তাকে কী কী পরামর্শ দেওয়া যায়, বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বঙ্কিমচন্দ্রের মতে কাব্য, নাটক ও উপন্যাস দুই এক বছর ফেলে রেখে তারপর সংশোধন করলে বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাময়িক সাহিত্যের কাজে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লেখা জমা দিতে হয়। ফলে লেখা কিছুকাল ফেলে রেখে পুনরায় পড়ে সংশোধন করার সুযোগ থাকে না। হঠাৎ ছাপানো লেখায় অনেক দোষ থেকে যায়। বঙ্কিমচন্দ্র তাই সাময়িক সাহিত্যকে লেখকের পক্ষে অবনতিকর বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নাজমা উপন্যাসটি লিখে প্রায় দুই বছর ফেলে রেখে তারপর সংশোধন করেছেন। প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র নির্দেশ দিয়েছেন, যা লেখা হবে তা হঠাৎ ছাপানো উচিত নয়; কিছুকাল ফেলে রেখে সংশোধন করতে হবে। তাতে লেখার অনেক দোষ চোখে পড়ে। তিনি বিশেষভাবে বলেছেন, কাব্য, নাটক ও উপন্যাস দুই এক বছর ফেলে রেখে সংশোধন করলে বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে। নাজমা ঠিক এই পথেই চলেছেন বলে তাঁর উপন্যাস প্রশংসিত হয়েছে। তাই তাঁর কাজ প্রাবন্ধিকের নির্দেশনার আলোকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নুসরাতের লেখায় ভুল থাকার মূল কারণ তাড়াহুড়ো করে লিখে সঙ্গে সঙ্গে জমা দেওয়া। বঙ্কিমচন্দ্রের নির্দেশনার আলোকে তাকে কয়েকটি পরামর্শ দেওয়া যায়। প্রথমত, লেখা শেষ করে কিছুদিন সরিয়ে রাখতে হবে, তারপর আবার পড়ে সংশোধন করতে হবে। এতে বানান, ছন্দ ও ভাবের ত্রুটি ধরা পড়বে। দ্বিতীয়ত, যে বিষয়ে তার ভালো অধিকার নেই, সে বিষয়ে লেখা থেকে বিরত থাকতে হবে। তৃতীয়ত, কোনো অংশ নিজের কাছে খুব সুন্দর মনে হলে তা বন্ধুদের বারবার পড়ে শোনাতে হবে। ভালো না হলে নিজেই তা কেটে দিতে লজ্জা বোধ করবে। চতুর্থত, ভাষায় সরলতা বজায় রাখতে হবে, কারণ সরলতাই শ্রেষ্ঠ অলংকার। এসব মেনে চললে নুসরাতের লেখা ক্রমে নির্ভুল ও পরিণত হয়ে উঠবে এবং তার সৃষ্টি স্থায়ী মূল্য পাবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও