বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
নিচের ছকে তিনটি দেশের আইনসভার তথ্য দেওয়া হলো:
| দেশ | আইনসভার গঠন |
|---|---|
| ক | এক কক্ষবিশিষ্ট; মোট ৩৫০ জন সদস্য, এর মধ্যে ৩০০ জন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত |
| খ | দুই কক্ষবিশিষ্ট; উচ্চ ও নিম্ন পরিষদ আছে |
| গ | এক কক্ষবিশিষ্ট; সদস্যদের ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হন |
দেশ ‘ক’-এর সরকার একটি নতুন প্রকল্পের জন্য সংসদের অনুমোদন ছাড়াই অর্থ ব্যয় করতে চাইলে বিরোধী দল আপত্তি জানায়।
- ক)(1)
বাংলাদেশের আইনসভার নাম কী?
- খ)(2)
জাতীয় সংসদকে সংবিধানের আমানতদার বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের দেশ ‘ক’-এর আইনসভায় সংরক্ষিত আসন কয়টি এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সঙ্গে এর কোন বিষয়ে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দেশ ‘ক’-এর সরকারের উল্লিখিত পদক্ষেপ কি সংসদের অর্থসংক্রান্ত ক্ষমতার পরিপন্থী? বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ক্ষমতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সংবিধান সংরক্ষণ ও সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত। সংবিধানের যেকোনো সংশোধনী সংসদেই উত্থাপিত ও গৃহীত হয়। সংসদ সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করে এবং এর মর্যাদা রক্ষা করে। এ কারণে জাতীয় সংসদকে সংবিধানের আমানতদার বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দেশ ‘ক’-এর আইনসভায় মোট সদস্য ৩৫০ জন, এর মধ্যে ৩০০ জন প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত। সুতরাং সংরক্ষিত আসন ৩৫০ − ৩০০ = ৫০টি।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদও সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুসারে মোট ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। এর ৩০০ জন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন এবং ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। বাংলাদেশের সংসদও এক কক্ষবিশিষ্ট।
অতএব, দেশ ‘ক’-এর আইনসভার সদস্যসংখ্যা, প্রত্যক্ষ নির্বাচিত আসন ও সংরক্ষিত আসনের বিন্যাস এবং এক কক্ষবিশিষ্ট গঠনের দিক থেকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সঙ্গে মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হ্যাঁ, দেশ ‘ক’-এর সরকারের পদক্ষেপটি সংসদের অর্থসংক্রান্ত ক্ষমতার পরিপন্থী।
জাতীয় সংসদ রাষ্ট্রের অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে তার ওপর দৃষ্টি রাখে। সংসদের অনুমোদন ও কর্তৃত্ব ছাড়া কোনো প্রকার ব্যয় করা যায় না। কোনো কর আরোপ বা সংগ্রহ করতেও সংসদের অনুমতি নিতে হয়। প্রত্যেক অর্থবছরে সরকার বাজেট উপস্থাপন করে এবং সংসদ অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী সরকারকে চলতে হয়। সংযুক্ত তহবিলের ব্যয়সমূহের ওপরও সংসদে আলোচনা হয়। মোটকথা, রাষ্ট্রীয় ও সরকারি সকল ব্যয় সংসদের সম্মতির ভিত্তিতে করতে হয়।
উদ্দীপকে সরকার সংসদের অনুমোদন ছাড়াই অর্থ ব্যয় করতে চাওয়ায় এই নীতি লঙ্ঘিত হচ্ছে। ফলে বিরোধী দলের আপত্তি যৌক্তিক।
অধিকন্তু, সংসদ শাসনবিভাগকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে পারে; সংসদ চাইলে প্রশ্ন, নিন্দা প্রস্তাব বা অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এভাবে অর্থসংক্রান্ত ক্ষমতা সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করে।
তাই সংসদের অনুমোদন ছাড়া ব্যয়ের উদ্যোগ অবৈধ এবং সংসদের অর্থসংক্রান্ত ক্ষমতার পরিপন্থী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও