জীববিজ্ঞান • জীবের পরিবেশ

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

সুমি দাদুর বাড়ির পুকুরে লক্ষ করল যে পানিতে শৈবাল ও ক্ষুদ্র ভাসমান উদ্ভিদ রয়েছে। এগুলো খায় জুয়োপ্লাঙ্কটন ও রুই মাছ। ছোট মাছ ও চিংড়ি জুয়োপ্লাঙ্কটন খায় এবং শোল মাছ ছোট মাছ খায়। পুকুরের তলায় কাদায় অনেক ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বাস করে। সম্প্রতি দাদু পুকুর থেকে সব শোল মাছ ধরে বিক্রি করে দিয়েছেন।

  1. ক)

    প্লাঙ্কটন কী?

    (1)
  2. খ)

    পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে ফাইটোপ্লাঙ্কটন গুরুত্বপূর্ণ কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পুকুরের জীবগুলোকে উৎপাদক, ১ম, ২য় ও ৩য় স্তরের খাদক ও বিয়োজক হিসেবে সাজিয়ে লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    পুকুর থেকে সব শোল মাছ সরিয়ে ফেলায় পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে কী প্রভাব পড়তে পারে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র জীবদের প্লাঙ্কটন বলে। উদ্ভিদ প্লাঙ্কটনকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন এবং প্রাণী প্লাঙ্কটনকে জুয়োপ্লাঙ্কটন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফাইটোপ্লাঙ্কটন হলো সবুজ জলজ শৈবাল ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ। এরা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজেরা খাদ্য তৈরি করে। পুকুরের জুয়োপ্লাঙ্কটন, রুই মাছ ইত্যাদি এদের খেয়ে বাঁচে এবং এদের মাধ্যমেই খাদ্যশক্তি পুকুরের অন্যান্য খাদকে পৌঁছায়। এছাড়া এরা পানিতে অক্সিজেন যোগ করে। তাই পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে ফাইটোপ্লাঙ্কটন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের পুকুরের জীবগুলো খাদ্যস্তর অনুযায়ী নিচে সাজানো হলো:
    ১. উৎপাদক: শৈবাল ও ক্ষুদ্র ভাসমান উদ্ভিদ (ফাইটোপ্লাঙ্কটন), কারণ এরা সালোকসংশ্লেষণ করে খাদ্য তৈরি করে।
    ২. প্রথম স্তরের খাদক: জুয়োপ্লাঙ্কটন ও রুই মাছ, কারণ এরা সরাসরি উৎপাদক খায়।
    ৩. দ্বিতীয় স্তরের খাদক: ছোট মাছ ও চিংড়ি, কারণ এরা প্রথম স্তরের খাদক জুয়োপ্লাঙ্কটন খায়।
    ৪. তৃতীয় স্তরের খাদক: শোল মাছ, কারণ এটি দ্বিতীয় স্তরের খাদক ছোট মাছ খায়।
    ৫. বিয়োজক: কাদায় বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শোল মাছ পুকুরের তৃতীয় স্তরের বা সর্বোচ্চ খাদক, যে ছোট মাছ খেয়ে তার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। সব শোল মাছ সরিয়ে ফেললে পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে নিচের প্রভাবগুলো পড়তে পারে:
    ১. ছোট মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি: শিকারি না থাকায় ছোট মাছের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাবে।
    ২. জুয়োপ্লাঙ্কটন হ্রাস: ছোট মাছ বেশি পরিমাণে জুয়োপ্লাঙ্কটন খাবে, ফলে জুয়োপ্লাঙ্কটনের সংখ্যা কমে যাবে।
    ৩. খাদ্যের প্রতিযোগিতা: জুয়োপ্লাঙ্কটন কমে গেলে একই খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল চিংড়ি খাদ্যসংকটে পড়বে এবং বেড়ে যাওয়া ছোট মাছও পর্যাপ্ত খাদ্য পাবে না।
    ৪. শৈবালের অতিবৃদ্ধি: জুয়োপ্লাঙ্কটন কমলে শৈবাল কম ভক্ষিত হবে এবং অতিরিক্ত বেড়ে যেতে পারে। এতে পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
    এভাবে খাদ্যজালের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পুকুরের বাস্তুতন্ত্র অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও