ইতিহাস ২য় পত্র • শিল্পবিপ্লব
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
শীতকালে নান্টু মিয়ার গ্রামের কাঁচা রাস্তা কাদায় ভরে যায়, ফলে গরুর গাড়ি চলে না এবং ৯০ মাইল দূরের শহরে মাল পৌঁছাতে ৩০ ঘণ্টা সময় লাগে। সম্প্রতি সেখানে নতুন পদ্ধতিতে পাকা সড়ক তৈরি হয়েছে এবং একটি খাল খনন করে শহরের সাথে শিল্পাঞ্চলের সংযোগ ঘটানো হয়েছে। এছাড়া রেললাইনে আট কামরার একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রেন ঘণ্টায় ৩০ মাইল বেগে চলছে।
- ক)(1)
কোন প্রকৌশলী ব্রিণ্ডওয়াটার খাল খনন করেন?
- খ)(2)
শিল্পবিপ্লবের সময় ইংল্যান্ডে সড়ক নির্মাণের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের প্রয়োজন হয়েছিল কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ট্রেনটির গতিতে ৯০ মাইল পথ অতিক্রম করতে কত সময় লাগবে? উদ্দীপকের গরুর গাড়ির সাথে এই সময়ের তুলনা করে উদ্দীপকের ইঞ্জিনটির আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সাল উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবহন ও যোগাযোগের উন্নয়ন ব্রিটেনে শিল্পবিপ্লবকে ত্বরান্বিত করেছিল- পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রকৌশলী ব্রিণ্ডলে ১৭৬১ খ্রিষ্টাব্দে উরসলি-ম্যানচেস্টারকে সংযোগকারী ব্রিণ্ডওয়াটার খাল খনন করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিল্পবিপ্লবের ফলে শিল্পজাত দ্রব্য ও যন্ত্রপাতি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে দ্রুত পরিবহন করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কিন্তু তখনকার ইংল্যান্ডের অধিকাংশ রাস্তা শীতকালে এমন কর্দমাক্ত হতো যে যানবাহন চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ত। তাই টেলফোর্ড ও ম্যাকাডাম রাস্তা নির্মাণের নতুন প্রণালি উদ্ভাবন করেন, যা যোগাযোগব্যবস্থায় যুগান্তর আনে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ট্রেনটি ঘণ্টায় ৩০ মাইল বেগে চলে। সুতরাং ৯০ মাইল যেতে সময় লাগবে ৯০ ÷ ৩০ = ৩ ঘণ্টা। গরুর গাড়িতে একই পথ যেতে ৩০ ঘণ্টা লাগে। অর্থাৎ ট্রেনে সময় লাগে গরুর গাড়ির এক-দশমাংশ, ২৭ ঘণ্টা কম। এই ট্রেনের ইঞ্জিনটি জর্জ স্টিফেনসন কর্তৃক ১৮১৪ খ্রিষ্টাব্দে আবিষ্কৃত চলমান ইঞ্জিন বা রেলের লোকোমোটিভ ইঞ্জিনকে নির্দেশ করে। স্টিফেনসনের ইঞ্জিন লোহার পাত বা লাইনের ওপর ৮টি কামরা নিয়ে ঘণ্টায় ৩০ মাইল গতিতে চলতে পারত, যা উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সড়ক, খাল ও রেলপথের যে উন্নয়ন দেখানো হয়েছে, তা ব্রিটেনের শিল্পবিপ্লবকে ত্বরান্বিত করেছিল। ১. কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন: উন্নত সড়ক ও খালপথের ফলে কৃষিপণ্য শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে দ্রুত কারখানায় পৌঁছানো সম্ভব হয় এবং উৎপাদিত পণ্যও সহজে বাজারে যেত। ১৭৫৯ খ্রিষ্টাব্দে পণ্যবাহী খালের প্রবর্তন এবং ১৭৬১ সালে ব্রিণ্ডওয়াটার খাল জলপথে যোগাযোগে আমূল পরিবর্তন আনে। ২. উৎপাদন ও ভোগের সামঞ্জস্য: যাতায়াত ও যোগাযোগব্যবস্থা উৎপাদন ও ভোগের মধ্যে সামঞ্জস্যবিধানের বাহক। উন্নত পরিবহনে পণ্য দ্রুত ভোক্তার কাছে পৌঁছে বাজার সম্প্রসারিত হয়। ৩. রেলের যুগান্তর: জেমস ওয়াটের স্টিম ইঞ্জিনের সংস্কার থেকে স্টিফেনসনের লোকোমোটিভ ১৮১৪ সালে আবিষ্কৃত হয়, যা স্বল্প সময়ে বিপুল পণ্য ও যাত্রী বহন করতে সক্ষম ছিল। ৪. সময় ও ব্যয় সাশ্রয়: টেলফোর্ড ও ম্যাকাডামের সড়ক নির্মাণ পদ্ধতিতে শীতকালেও যান চলাচল সম্ভব হয়, ফলে সময় ও খরচ কমে। উদ্দীপকের ৩০ ঘণ্টার পথ ৩ ঘণ্টায় অতিক্রম এর প্রমাণ। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থার ক্রমোন্নতি কাঁচামাল, শ্রম ও বাজারের সংযোগ ঘটিয়ে শিল্পবিপ্লবকে ত্বরান্বিত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও