সাহিত্য পাঠ • তাজমহল
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
কলেজছাত্র রাফি প্রথমবার পদ্মা সেতু দেখতে গিয়ে বিস্ময়ে অভিভূত হয়েছিল। এখন সে ওই এলাকার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। প্রতিদিন সেতুর পাশ দিয়ে যাতায়াত করলেও সেতু আর তার চোখে পড়ে না। একদিন এক হতদরিদ্র কৃষককে তাঁর অসুস্থ মাকে কাঁধে নিয়ে আসতে দেখে রাফি গভীরভাবে আলোড়িত হয়।
- ক)(1)
ক্যান্সার অরিস কী?
- খ)(2)
“তাজমহল সম্বন্ধে আর মোহ নেই”—লেখক কেন এ কথা বলেছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাফির মানসিকতার সঙ্গে ‘তাজমহল’ গল্পের কথকের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“সৌন্দর্যের মোহ কেটে গেলেও মানবিক মহত্ত্বের স্পর্শে মন আলোড়িত হয়”—‘তাজমহল’ গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ক্যান্সার অরিস হলো গলিত মুখক্ষত রোগ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখক তাজমহলকে বহুবার বহু রূপে দেখেছেন—অন্ধকারে, জ্যোৎস্নায়, সন্ধ্যায়, ঊষায় এবং বিভিন্ন ঋতুতে। এখন আগ্রার কাছের এক দাতব্য চিকিৎসালয়ে ডাক্তার হিসেবে তাঁকে প্রায়ই তাজমহলের পাশ দিয়ে যেতে হয়। বারবার দেখার ফলে এর প্রতি তাঁর প্রথম দিনের বিস্ময় ও আকর্ষণ আর নেই। এ কারণেই তিনি বলেছেন, তাজমহল সম্বন্ধে তাঁর আর মোহ নেই।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রাফির মানসিকতার সঙ্গে ‘তাজমহল’ গল্পের কথকের পরিচিত সৌন্দর্যের প্রতি মোহ হারানোর দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। গল্পের কথক প্রথমবার আগ্রায় গিয়ে তাজমহল দেখতে খুব উৎসাহী ছিলেন এবং জ্যোৎস্নায় দ্বিতীয়বার দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু বহুবার দেখার পর ডাক্তার হিসেবে আগ্রায় থাকাকালে তাজমহল আর তাঁর চোখে লাগে না, মোহও থাকে না। উদ্দীপকের রাফিও প্রথম পদ্মা সেতু দেখে বিস্মিত হয়েছিল, কিন্তু প্রতিদিন যাতায়াত করতে করতে এখন সেতু আর তার চোখে পড়ে না। দুজনেই পেশাসূত্রে একই স্থানে থেকে নিত্য দেখার ফলে সৌন্দর্যের প্রতি আকর্ষণ হারিয়েছেন। এখানেই তাঁদের মানসিকতার মিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘তাজমহল’ গল্পে কথকের কাছে তাজমহলের বাহ্যিক সৌন্দর্য নিত্য দেখার ফলে একসময় সাধারণ হয়ে যায়। তিনি স্বীকার করেন, ‘এবার যে আর চোখে লাগে না। চোখে পড়েই না।’ কিন্তু যখন এক বৃদ্ধ মুসলমান ক্যান্সার অরিসে আক্রান্ত বেগমকে পিঠে বুড়িতে করে বয়ে এনে নিরলস সেবা করে, তখন কথক তার ভালোবাসার গভীরতা অনুভব করেন। শেষে বৃদ্ধ যখন ভাঙা ইট ও কাদা দিয়ে বেগমের কবর গাঁথে এবং নিজের পরিচয় দেয় ‘ফকির শাহজাহান’, তখন কথক নির্বাক হয়ে যান। অর্থাৎ পাথরের তাজমহল যে অনুভূতি দিতে পারেনি, দরিদ্র মানুষের নিঃস্বার্থ প্রেম সেই অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
উদ্দীপকে রাফির কাছে পদ্মা সেতু একঘেয়ে হয়ে গেলেও কৃষকের মাকে কাঁধে করে আনার দৃশ্য তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। এখানেও দেখা যায়, নিত্য দেখা বস্তুর সৌন্দর্য মনকে নাড়া দেয় না, কিন্তু মানুষের আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার ছবি দেয়।
সুতরাং উক্তিটি যথার্থ। গল্প ও উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই মানবিক মহত্ত্ব বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে অধিক গভীর অনুভূতি জাগায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও