বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী আলমগীর সাহেব নিজ এলাকার একটি মাদরাসায় ২ লক্ষ টাকা অনুদান দেন এবং সরকারি রেস্টহাউসে নির্বাচনি সভা করেন। তাঁর সমর্থকরা বিরোধী প্রার্থীর পোস্টারের ওপর নিজেদের পোস্টার লাগায়। ভোটের আগের দিন রাত দশটা পর্যন্ত তারা মাইক বাজায় এবং দেয়ালে দেয়ালে লিখন দেয়।

  1. ক)

    নির্বাচনি আচরণবিধি কী?

    (1)
  2. খ)

    নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর কোনো প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া নিষিদ্ধ কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আলমগীর সাহেব ও তাঁর সমর্থকদের কাজগুলোর মধ্যে নির্বাচনি আচরণবিধির কোন কোন বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে? উল্লেখ করে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ঘটনাগুলোর ফলে নির্বাচনের পরিবেশে কী কী প্রভাব পড়তে পারে এবং এর প্রতিকারে প্রতিপক্ষ প্রার্থী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রার্থী, দল ও সংশ্লিষ্ট সকলকে যেসব নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়, তাকে নির্বাচনি আচরণবিধি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অনুদান বা চাঁদার মাধ্যমে প্রার্থী ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারেন। এতে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পান না এবং ভোটাররা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারে না। তাই তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত প্রকাশ্যে বা গোপনে চাঁদা, অনুদান বা উন্নয়ন প্রকল্পের অঙ্গীকার দেওয়া নিষিদ্ধ। এর উদ্দেশ্য নির্বাচনকে অর্থের প্রভাবমুক্ত রাখা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে আচরণবিধির একাধিক বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। প্রথমত, তফসিল ঘোষণার পর মাদরাসায় অনুদান দেওয়া নিষিদ্ধ কাজ। দ্বিতীয়ত, সরকারি রেস্টহাউসকে নির্বাচনি কার্যক্রমের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না, অথচ তিনি সেখানে সভা করেছেন। তৃতীয়ত, কোনো প্রার্থীর পোস্টারের ওপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোস্টার লাগানো নিষেধ। চতুর্থত, মাইক বা উচ্চ শব্দের ব্যবহার দুপুর দুইটা থেকে রাত আটটার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, কিন্তু রাত দশটা পর্যন্ত মাইক বাজানো হয়েছে। পঞ্চমত, সকল প্রকার দেয়াল লিখন নিষিদ্ধ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ঘটনাগুলো নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে। অনুদান ও সরকারি রেস্টহাউস ব্যবহারে আলমগীর সাহেব অন্য প্রার্থীদের তুলনায় অন্যায্য সুবিধা পাচ্ছেন, ফলে সমান সুযোগের নীতি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। প্রতিপক্ষের পোস্টারের ওপর পোস্টার লাগানোয় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। অতিরিক্ত মাইকের শব্দ জনজীবনে অস্বস্তি সৃষ্টি করে এবং দেয়াল লিখনে পরিবেশ নষ্ট হয়। এভাবে অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাবে নির্বাচন প্রভাবিত হয়, যা আচরণবিধির মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

    আচরণবিধি অনুযায়ী এগুলো নির্বাচনি অনিয়ম হিসেবে গণ্য হবে। প্রতিপক্ষ প্রার্থী নিজে বা সমর্থকরা আইন হাতে তুলে নিতে পারবেন না। প্রতিকারের জন্য তাঁকে নির্বাচনি এলাকাধীন ‘ইলেক্টরাল ইনকোয়ারি কমিটি’ বা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করতে হবে। কেউ বাধা দিলে পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ করা যাবে।

    সুতরাং আচরণবিধি মেনে চলা এবং লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বৈধ পথে প্রতিকার চাওয়াই সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও