সাহিত্য পাঠ • সাহিত্যে খেলা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

চিত্রশিল্পী রাহাত খান বিশাল ম্যুরাল আঁকার জন্য সুপরিচিত। অবসরে তিনি খেয়ালখুশিমতো মজার মজার কার্টুন আঁকেন এবং সবাই সেগুলোর প্রশংসা করে। একই পাড়ার একাদশ শ্রেণির ছাত্র মুন্নাও কার্টুন আঁকতে ভালোবাসে। প্রতিবেশীরা তাকে বলে, “এসব ছেলেখেলা ছেড়ে বড় ছবি আঁকো, নইলে লোকে হাসবে।” এখন মুন্না আঁকতে বসলেও সংকোচ বোধ করে।

  1. ক)

    রোঁদ্যা কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    “শিল্পরাজ্যে খেলা করবার প্রবৃত্তির ন্যায় অধিকারও বড়-ছোট সকলের সমান আছে।”— ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রতিবেশীদের মনোভাব ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধের কোন বক্তব্যের পরিপন্থী? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে মুন্নাকে তুমি কী পরামর্শ দেবে? যুক্তিসহ উপস্থাপন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রোঁদ্যা ১৯১৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রমথ চৌধুরী বলতে চেয়েছেন, শিল্পের জগতে খেলা করার ইচ্ছা যেমন সবার মধ্যে আছে, তেমনি সে খেলার অধিকারও সবার সমান। রোঁদ্যার মতো মহান শিল্পী যেমন কাদা দিয়ে পুতুল গড়ে খেলেন, সাধারণ মানুষেরও তেমনি ডাইনে-বাঁয়ে ছোটখাট গলিঘুঁজিতে খেলাচ্ছলে প্রবেশের অধিকার আছে। শিল্পী বড় না ছোট, তার ওপর এ অধিকার নির্ভর করে না। কেবল ‘মহাজন’ বলে কারও একচেটিয়া অধিকার নেই। উক্তিটিতে এ সমানাধিকারের কথাই বলা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে মুন্নার প্রতি প্রতিবেশীদের মনোভাব ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধের সেই বক্তব্যের পরিপন্থী, যেখানে বলা হয়েছে শিল্পরাজ্যে খেলা করার অধিকার ছোট-বড় সকলের সমান। প্রমথ চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, রোঁদ্যার মতো বড় শিল্পীও যখন-তখন মাটির পুতুল গড়ে খেলেন। আর খেলার ময়দানে ছোট-বড় বা ধনী-দরিদ্রের ভেদ নেই। তিনি আরও বলেছেন, উঁচু আশা নিয়ে ক্ষেত্রে নামলে বরং নিম্নশ্রেণিতে পড়তে হয়। উদ্দীপকে রাহাত খান বড় শিল্পী হয়ে খেয়ালখুশিমতো কার্টুন আঁকলে সবাই প্রশংসা করে, অথচ মুন্না একই কাজ করলে প্রতিবেশীরা তাকে ছেলেখেলা বলে নিরুৎসাহিত করে এবং বড় ছবি আঁকতে বলে। এ আচরণ বড়-ছোটর মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে এবং খেলার সমান অধিকারকে অস্বীকার করে। তাই তাদের মনোভাব প্রবন্ধের বক্তব্যের পরিপন্থী।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে আমি মুন্নাকে প্রতিবেশীদের কথায় কান না দিয়ে আনন্দের টানে কার্টুন আঁকা চালিয়ে যেতে পরামর্শ দেব। প্রথমত, প্রমথ চৌধুরীর মতে শিল্পী মাত্রই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন। ফরাসি ভাস্কর রোঁদ্যা বিশাল ভাস্কর্য গড়ার পাশাপাশি হাতে কাদা নিয়ে পুতুল গড়তেন, যা তাঁর খেলা। অতএব ছোট আকারে হালকা ছবি আঁকা কোনো অপরাধ বা ছেলেখেলা বলে তুচ্ছ করার বিষয় নয়। দ্বিতীয়ত, প্রবন্ধে বলা হয়েছে, নিজের আয়ত্তের বাইরের উচ্চস্থানে ওঠার চেষ্টাই অনেক সময় মহাপতনের কারণ হয়। তাই প্রতিবেশীদের কথামতো জোর করে বড় ছবি আঁকতে গেলে মুন্না নিজের স্বাভাবিক আনন্দ ও সৃজনশীলতা হারাতে পারে। তৃতীয়ত, লেখকের মতে খেলার আনন্দ উদ্দেশ্যহীন বলেই শ্রেষ্ঠ এবং এতে সকলের সমান অধিকার; খ্যাতি বা লোকের প্রশংসার জন্য আঁকলে সে আনন্দ নষ্ট হয়। সুতরাং মুন্না যেন লোকের হাসির ভয়ে সংকোচ না করে, বরং নিজের আনন্দের জন্যই আঁকে। তবে প্রবন্ধে মহাজনদের পথ অনুসরণের কথাও আছে, তাই সে বড় শিল্পীদের কাজ দেখে শিখতেও পারে। কিন্তু কোনোভাবেই খেলার অধিকার ছাড়া উচিত নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও