বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া ইন্টারনেটে দেখল, ইউরোপের একটি দেশে বছরের কয়েক মাস সূর্য বাঁকাভাবে কিরণ দেয় এবং কখনো কখনো সূর্য প্রায় দেখাই যায় না। ফলে সেখানকার মানুষকে ঘরবাড়ি গরম রাখতে প্রচুর জ্বালানি খরচ করতে হয়। তানিয়া ভাবল, তাদের গ্রামের অনেক বাড়িতে সোলার প্যানেল বসানো আছে এবং সেখানে এমন জ্বালানি খরচ করতে হয় না।
- ক)(1)
কোন অঞ্চলে সূর্য বছরের প্রায় সবসময়ই লম্বভাবে কিরণ দেয়?
- খ)(2)
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রচুর সৌরশক্তি পাওয়া যায় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ইউরোপীয় দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষকে জ্বালানি কম খরচ করতে হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তানিয়ার গ্রামের মতো সৌরশক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের উন্নতির সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নিরক্ষীয় বা নিম্ন অক্ষাংশ অঞ্চলে সূর্য বছরের প্রায় সবসময়ই লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিরক্ষীয় বা ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলে সূর্য বছরের প্রায় সবসময় লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এখানে তাপমাত্রা কখনো নিম্ন পর্যায়ে নামে না এবং সূর্যের আলো ছাড়া অন্ধকারে থাকতে হয় না। এ কারণে এসব দেশ প্রচুর সৌরশক্তি পেয়ে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ইউরোপীয় দেশে বছরে কয়েক মাস সূর্য বাঁকাভাবে কিরণ দেয় এবং কখনো প্রায় দেখাই যায় না। তাই সেখানে বাড়িঘর বসবাসের উপযোগী রাখতে রাষ্ট্র ও জনগণকে প্রচুর জ্বালানি সম্পদ ব্যয় করতে হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে সূর্য প্রায় সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এখানে তাপমাত্রা কখনো খুব নিচে নামে না। ফলে প্রকৃতি থেকে অনায়াসে প্রচুর সূর্যের আলো ও তাপ পাওয়া যায়। এ কারণে ঘর গরম রাখার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে আলাদা করে জ্বালানি তেমন খরচ করতে হয় না। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর তানিয়ার গ্রামের বাড়িগুলোতে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সৌরশক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সূর্যের আলো অনায়াসে প্রচুর পাওয়া যায় বলে সৌরশক্তি একটি মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এ সম্পদ ব্যবহার করে দেশের উন্নতির সম্ভাবনা অনেক।
১. বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ: প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এতে বিদ্যুৎবঞ্চিত দূরবর্তী গ্রামেও আলো পৌঁছানো সম্ভব।
২. খাদ্য: সৌরশক্তি কৃষিতে ফসল শুকানো ও সংরক্ষণের কাজে লাগানো যায়, ফলে খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ বাড়বে।
৩. চিকিৎসা: দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালু রাখা যায়।
৪. বাসস্থান: ঘরে আলো ও বিদ্যুতের জোগান দিয়ে বাসস্থানের মান উন্নত করা যায়।
এছাড়া সৌরশক্তি ব্যবহার করলে অন্যান্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে। তাই সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সৌরশক্তি খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নতি ত্বরান্বিত করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও