সাহিত্য পাঠ • কলিমদ্দি দফাদার

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

একাত্তরে শান্তি কমিটির সভায় রফিক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলতেন এবং হানাদার ক্যাম্পে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সুযোগ পেলেই তিনি গ্রামের তরুণদের নাম ক্যাম্পে জানিয়ে দিতেন। অন্যদিকে স্কুলশিক্ষক মিজান মাস্টার শান্তিপ্রিয় ও নীরব মানুষ। তিনি রাজাকার বাহিনীর সভায় চুপচাপ থাকতেন, কিন্তু রাতের আঁধারে মুক্তিযোদ্ধাদের চাল, ওষুধ ও খবর পৌঁছে দিতেন। ধরা পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও তিনি এ কাজ চালিয়ে যান।

  1. ক)

    ‘দফাদার’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “মালুম হোতা পুলসেরাত।”—কমান্ডার এ কথা বলেছিল কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রফিক চেয়ারম্যান ও ‘কলিমদ্দি দফাদার’ গল্পের কলিমদ্দির মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা নিরূপণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের মিজান মাস্টারের চেয়ে কলিমদ্দি দফাদারের ভূমিকা ছিল অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও সরাসরি।”—উদ্দীপক ও ‘কলিমদ্দি দফাদার’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘দফাদার’ শব্দের অর্থ গ্রামে পাহারায় নিয়োজিত চৌকিদারের সরদার।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কমান্ডার সামনের কাঠের পুলটির জীর্ণ ও বিপজ্জনক অবস্থা দেখে এ কথা বলেছিল। পুলটির নিচে খরস্রোতা খাল, দু-পাশে ধরার জন্য কোনো বাঁশের ধরনি নেই এবং তক্তাও নরম। ইসলামি বিশ্বাসমতে পুলসেরাত পরকালের সরু ও ভয়ংকর সাঁকো। কমান্ডার পুলটির ভয়াবহতা বোঝাতে এ তুলনা দিয়েছে। সে নিজে পুলে না উঠে দফাদারকে আগে যেতে বলেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রফিক চেয়ারম্যান ও ‘কলিমদ্দি দফাদার’ গল্পের কলিমদ্দির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো তাদের আনুগত্যের ক্ষেত্রে। রফিক চেয়ারম্যান আন্তরিকভাবেই হানাদারদের সহযোগী। তিনি শান্তি কমিটির সভায় মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং তরুণদের নাম ক্যাম্পে জানিয়ে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। অন্যদিকে কলিমদ্দি বাইরে খান সেনাদের হুকুম মেনে চললেও আসলে সে কৌশলে তাদের ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। সে সরকারি লোকের পরিচয়ে হানাদারদের বিশ্বাস অর্জন করে এবং নিজের দেশপ্রেম লুকিয়ে রাখে। শেষে সে পুলের ওপর থেকে পড়ে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের সংকেত দেয়। অর্থাৎ রফিক বাস্তবে শত্রুর সহযোগী, আর কলিমদ্দি শত্রুর ছদ্মবেশী প্রতিপক্ষ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “উদ্দীপকের মিজান মাস্টারের চেয়ে কলিমদ্দি দফাদারের ভূমিকা ছিল অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও সরাসরি”—মন্তব্যটি আংশিকভাবে যথার্থ। উদ্দীপকের মিজান মাস্টার রাজাকারদের সভায় নীরব থেকে গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের চাল, ওষুধ ও খবর পৌঁছে দিতেন। তাঁর কাজ গোপন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং ধরা পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও তিনি তা চালিয়ে যান। ‘কলিমদ্দি দফাদার’ গল্পে কলিমদ্দি আরও প্রত্যক্ষ ঝুঁকি নিয়েছে। সে সশস্ত্র খান সেনাদের একেবারে সামনে আগে আগে পথ দেখিয়েছে। একটি কিশোরকে চোখের সামনে খুন হতে দেখেও আত্মসংবরণ করে অভিযান চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। অবশেষে নড়বড়ে পুলের ওপর থেকে তক্তাসহ স্রোতের মধ্যে পড়ে গিয়ে হানাদারদের ফাঁদে ফেলেছে। এটি জীবনের চরম ঝুঁকি। তবে মিজান মাস্টারের নিরবচ্ছিন্ন গোপন সহায়তাও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, কারণ তা মুক্তিযোদ্ধাদের টিকে থাকার রসদ জুগিয়েছে। তাই কলিমদ্দির ভূমিকা অধিক সরাসরি ও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দুজনের অবদানই মুক্তিযুদ্ধে সমান তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও