সাহিত্য পাঠ • সৌদামিনী মালো

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

পাহাড়ি এলাকায় ‘আলোর দিশারী’ নামের একটি বিদেশি সংস্থা বিনামূল্যে ওষুধ, কম্বল ও চাল বিতরণ করে। একটি দাতব্য স্কুলও চালায় তারা। সরল মানুষগুলো ভাবে, এমন দয়ালু মানুষ আর হয় না। অথচ সংস্থাটির কর্মীরা সেই আস্থাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে নিজেদের মতাদর্শ ছড়িয়ে দেয় এবং বিদেশি দাতাদের স্বার্থ হাসিলে সহায়তা করে। সংস্থার তহবিল কমে গেলে তারা মানুষের জমি ও সম্পদ নামমাত্র মূল্যে দান হিসেবে গ্রহণ করতেও দ্বিধা করে না।

  1. ক)

    সোদামিনী মালো কোথাকার অধিবাসিনী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    “এরা কেউ যিশুখ্রিষ্টের ভৃত্য নয়, এরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভৃত্য”—কথাটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    “The nearest way to poor man's heart is down their throat.”—প্রবাদটির আলোকে উদ্দীপকের ‘আলোর দিশারী’ সংস্থার কার্যক্রম ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের সংস্থা এবং ‘সোদামিনী মালো’ গল্পের ব্যাপটিস্ট মিশন—উভয়েই সেবার আড়ালে স্বার্থ খোঁজে”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সোদামিনী মালো নবীনগঞ্জের অধিবাসিনী ছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নাসির মোল্লা ব্রিটিশ আমলের মিশনারিদের সম্পর্কে এ মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে ব্রিটিশরা ভিত পাকা করতে মিশনারিদের এখানে-সেখানে ছড়িয়ে দিত, যাতে দরকারমতো তারা আউটপোস্টের কাজ করতে পারে। দাতব্য ডিসপেনসারি ও স্কুল চালিয়ে তারা মানুষের মন জয় করত এবং কিছু মানুষকে খ্রিষ্টান বানাত। বাহ্যত ধর্মসেবা হলেও আসলে তারা ব্রিটিশ শাসনের স্বার্থই রক্ষা করত। এ কারণে নাসির তাদের যিশুর নয়, সাম্রাজ্যের ভৃত্য বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রবাদটির অর্থ হলো, গরিব মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানোর সবচেয়ে সহজ পথ তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা। ‘সোদামিনী মালো’ গল্পে নাসির মোল্লা বলেন, ব্রিটিশরা দাতব্য ডিসপেনসারি ও আড্ডা স্কুল চালিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করত এবং এভাবে কিছু মানুষকে খ্রিষ্টান বানাত। উদ্দীপকের ‘আলোর দিশারী’ সংস্থাও বিনামূল্যে ওষুধ, কম্বল ও চাল দিয়ে অসহায় মানুষের বিশ্বাস জয় করে। সেই আস্থার সুযোগে তারা নিজেদের মতাদর্শ ও দাতাদের স্বার্থ প্রচার করে। অর্থাৎ ক্ষুধা ও অভাবের সুযোগ নিয়ে মানুষের মনে প্রবেশ করার যে কৌশল প্রবাদটিতে আছে, উদ্দীপকের সংস্থাটি সেই একই কৌশল অবলম্বন করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ, কেননা উভয় প্রতিষ্ঠানই সেবার মুখোশে নিজের স্বার্থ আদায় করেছে। গল্পের ব্যাপটিস্ট মিশন দাতব্য কার্যক্রম চালালেও এর পাদ্রিরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বার্থ রক্ষায় আউটপোস্টের কাজ করত। ইউরোপে মহাযুদ্ধের কারণে ডলার-চাঁদা কমে গেলে মিশনের আয় বাড়ানো জরুরি হয়ে ওঠে। ঠিক সেই সময় ব্রাদার জন সোদামিনীর দুর্বলতার সুযোগ নেয়। সমাজের চাপে অসহায় সোদামিনী খ্রিষ্টান হয়ে তার সমস্ত সম্পত্তি মিশনের নামে লিখে দেয়। পরে সম্পত্তি নিলামে তোলা হয় এবং সোদামিনী পাগল হয়ে মারা যায়। উদ্দীপকেও ‘আলোর দিশারী’ বিনামূল্যে সেবা দিয়ে আস্থা অর্জন করে এবং তহবিল কমে গেলে মানুষের জমি নামমাত্র মূল্যে হাতিয়ে নেয়। তবে পার্থক্য হলো, গল্পে মিশনের লোভ একজন নির্দিষ্ট অসহায় নারীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে, আর উদ্দীপকে তা গোটা জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলেছে। এ পার্থক্য সত্ত্বেও দুটি ক্ষেত্রেই দয়ার আড়ালে স্বার্থসিদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট। সুতরাং মন্তব্যটি পুরোপুরি সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও