জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব জীবনের ধারাবাহিকতা
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
জীববিজ্ঞান ক্লাসে মিতা ম্যাডাম পুরুষ জননতন্ত্রের একটি চার্ট দেখিয়ে তিনটি অংশ চিহ্নিত করলেন। A হলো স্ক্রোটামের ভিতরে ঝুলে থাকা এক জোড়া ডিম্বাকার অঙ্গ। B হলো মূত্রথলির নিচে অবস্থিত নাশপাতি আকৃতির একটি গ্রন্থি, যা ক্ষারীয় তরল ক্ষরণ করে। C হলো A-এর গায়ে লাগানো অত্যন্ত প্যাঁচানো একটি নালি, যা তিন অংশে বিভক্ত।
- ক)(1)
মুখ্য জননাঙ্গ কাকে বলে?
- খ)(2)
স্ক্রোটামকে শুক্রাণু উৎপাদনের সহায়ক অঙ্গ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের B অংশটির গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
A অংশে উৎপন্ন শুক্রাণু স্ত্রীদেহে পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত যে পথ অতিক্রম করে তা ক্রমানুসারে বিশ্লেষণ করো এবং এ পথে C ও B-এর ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে অঙ্গ শুক্রাণু উৎপন্ন করে তাকে মুখ্য জননাঙ্গ বলে। পুরুষের ক্ষেত্রে শুক্রাশয় হলো মুখ্য জননাঙ্গ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর স্ক্রোটাম বা অণ্ডথলি দুই উরুর মাঝখানে ঝুলে থাকা ত্বকে আবৃত একটি থলি, যার ভিতরে শুক্রাশয় অবস্থান করে। এটি শুক্রাণু উৎপাদনের অনুকূল তাপমাত্রা রক্ষা করে। এছাড়া এটি শুক্রাশয়কে চাপজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং চাপের মুখে শুক্রাশয় থলির ভিতর সহজেই পিছলে যেতে পারে। এসব কারণে স্ক্রোটামকে শুক্রাণু উৎপাদনের সহায়ক অঙ্গ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের B অংশটি হলো প্রোস্টেট গ্রন্থি।
গঠন: এটি শ্রোণিগহ্বরে মূত্রথলির নিচে অবস্থিত নাশপাতি আকৃতির গ্রন্থি এবং গোড়া ও চূড়ায় বিভক্ত। এটি পেশল ও গ্রন্থিময় টিস্যুতে গঠিত। গ্রন্থিময় টিস্যু কতগুলো খণ্ডযুক্ত এবং খণ্ডগুলোর নালিকা ইউরেথ্রায় উন্মুক্ত হয়। পেশল টিস্যুর সংকোচনে এর ক্ষরণ ইউরেথ্রায় মুক্ত হয়।
কাজ: ১. এ গ্রন্থি থেকে একধরনের ক্ষারীয় তরল নিঃসৃত হয়, যা বীর্যরসের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। ২. এই ক্ষারীয় তরল যোনির ভিতরের অম্লীয় অবস্থা প্রশমিত করে শুক্রাণুকে বেঁচে থাকতে সহায়তা করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর A হলো শুক্রাশয়, B হলো প্রোস্টেট গ্রন্থি এবং C হলো এপিডিডাইমিস।
শুক্রাণুর চলার পথ: ১. শুক্রাশয়ের সেমিনিফেরাস নালিকায় স্পার্মাটোজেনেসিসের মাধ্যমে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। ২. নালিকাগুলো সংগ্রাহক নালিকায় উন্মুক্ত হয়ে রেটি টেস্টিস গঠন করে। ৩. রেটি টেস্টিস থেকে প্রায় বিশটি ভাসা ইফারেনসিয়া সৃষ্টি হয়ে শুক্রাশয় ত্যাগ করে এপিডিডাইমিসে (C) মিলিত হয়। ৪. এপিডিডাইমিস থেকে শুক্রাণু ভাস ডিফারেন্সে প্রবেশ করে এবং অ্যাম্পুলায় পৌঁছায়। অ্যাম্পুলা সেমিনাল ভেসিকলে যুক্ত। ৫. শুক্রনালি ও সেমিনাল ভেসিকলের নালি মিলিত হয়ে ক্ষেপণ নালি গঠন করে এবং প্রোস্টেট গ্রন্থির (B) মধ্য দিয়ে গিয়ে ইউরেথ্রার সাথে যুক্ত হয়। ৬. ইউরেথ্রার মাধ্যমে শিশ্ন দিয়ে বীর্য স্ত্রী জননতন্ত্রে প্রেরিত হয়।
C-এর ভূমিকা: এপিডিডাইমিস শুক্রাণুর ভিতর থেকে তরল ও কঠিন অসার পদার্থ আলাদা করে শুক্রাণুর নিষেক ক্ষমতা বাড়ায় এবং পুষ্টি পদার্থ ক্ষরণ করে শুক্রাণুকে সতেজ রাখে।
B-এর ভূমিকা: প্রোস্টেটের ক্ষারীয় ক্ষরণ বীর্যরসের পরিমাণ বাড়ায় এবং যোনির অম্লীয় পরিবেশ প্রশমিত করে শুক্রাণুকে বাঁচিয়ে রাখে।
সুতরাং C শুক্রাণুকে নিষেকের উপযোগী করে এবং B শুক্রাণুর টিকে থাকার পরিবেশ তৈরি করে। এ দুটির সঠিক কার্যকারিতা ছাড়া শুক্রাণু A থেকে উৎপন্ন হলেও কার্যকরভাবে নিষেক ঘটাতে পারে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও