সাহিত্য পাঠ • কারবালা-প্রান্তর
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবক রাফি টানা তিন দিন পেটভরে খেতে বা পানি পান করতে পারেনি। চতুর্থ দিনে পানির ট্রাক এলে সে প্রথম গ্লাস ভরে মুখের কাছে তুলল। ঠিক তখনই সে দেখল, আশ্রয়কেন্দ্রের এক কোণে একটি শিশু ও তার বৃদ্ধ দাদু তৃষ্ণায় নেতিয়ে পড়েছে। রাফি গ্লাসের পানি ফেলে দিয়ে নিজে না খেয়ে আগে তাদের কাছে পানি পৌঁছে দিল।
- ক)(1)
কারবালা কোথায় অবস্থিত?
- খ)(2)
“আমার প্রাণের মায়াই কি এত অধিক হইল! ধিক আমার প্রাণে!” — ইমাম হোসেন এ কথা বলেছিলেন কেন? বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাফির কাজে ‘কারবালা-প্রান্তর’ রচনার ইমাম হোসেনের চরিত্রের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের রাফির মধ্যে ইমাম হোসেনের চরিত্রের সবটুকু প্রতিফলিত হয়নি।” — মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কারবালা ইরাক অঞ্চলের একটি বিখ্যাত ময়দান বা প্রান্তর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফোরাতকূল শত্রুমুক্ত করার পর ইমাম হোসেন তৃষ্ণার্ত অবস্থায় জলে নেমে অঞ্জলিভরে জল তুললেন। কিন্তু তখনই তাঁর মনে পড়ল, এই এক ফোঁটা জলের অভাবে আলী আকবর, কাসেমসহ তাঁর স্বজনেরা প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাকিরা এখনো পিপাসায় মৃতবৎ। স্বজনেরা তৃষ্ণায় কাতর থাকতে নিজে আগে জল পান করতে উদ্যত হওয়াকে তিনি নিজের স্বার্থপরতা ও প্রাণের মায়া বলে মনে করলেন। এই গভীর আত্মগ্লানি থেকেই তিনি নিজেকে ধিক্কার দিয়ে ওই কথা বলেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রাফির কাজে ‘কারবালা-প্রান্তর’ রচনার ইমাম হোসেনের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও অন্যের কষ্টের প্রতি সংবেদনশীলতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে রাফি তিন দিন পানি না পেয়েও প্রথম গ্লাসটি মুখে না তুলে তৃষ্ণার্ত শিশু ও বৃদ্ধকে দিয়েছে। নিজের চরম প্রয়োজনের চেয়ে অন্যের প্রয়োজনকে সে বড় করে দেখেছে। গদ্যাংশেও ইমাম হোসেন দীর্ঘ পিপাসার পর ফোরাতের জলে নেমে অঞ্জলিভরা জল তুলেও স্বজনদের পিপাসার কথা মনে করে তা নদীতে ফেলে দেন এবং ইহজীবনে আর জল পান না করার প্রতিজ্ঞা করেন। দুজনের কাজেই নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে অন্যের কষ্ট লাঘবের মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। তাই উদ্দীপকের রাফির কাজে হোসেনের আত্মত্যাগী ও স্বজনবৎসল দিকটিই ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর “উদ্দীপকের রাফির মধ্যে ইমাম হোসেনের চরিত্রের সবটুকু প্রতিফলিত হয়নি” — মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে রাফির কেবল পানি ত্যাগের মহৎ দিকটি দেখানো হয়েছে। সে তৃষ্ণা সত্ত্বেও অন্যের জন্য নিজের পানি ছেড়ে দিয়েছে, যা হোসেনের আত্মত্যাগের সঙ্গে মেলে। কিন্তু ‘কারবালা-প্রান্তর’ গদ্যাংশে ইমাম হোসেনের চরিত্র আরও বহুমাত্রিক। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে এসে এজিদের সৈন্যদের সম্মুখে মহাবীরের মতো উচ্চস্বরে তাদের আহ্বান করেছেন এবং আবদুর রহমানের মতো শ্রেষ্ঠ যোদ্ধাকে এক আঘাতে পরাস্ত করে সমগ্র শত্রুবাহিনীকে পলায়নে বাধ্য করেছেন। এছাড়া জাতিবধ, ভ্রাতৃপুত্র ও পুত্রহারা বেদনার তীব্র শোক, এজিদের প্রতি ক্ষোভ, শেষ মুহূর্তে অস্ত্র ত্যাগ করে স্থির ধ্যানমগ্নতা এবং সীমারকেও স্বর্গে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার মতো উদারতা তাঁর চরিত্রে ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে রাফির মধ্যে এই বীরত্ব, প্রতিশোধস্পৃহা, শোকবিহ্বলতা ও শত্রুর প্রতি ক্ষমাশীলতার কোনো প্রকাশ নেই। অতএব রাফি কেবল হোসেনের ত্যাগের গুণটির প্রতিনিধিত্ব করে, তাঁর সমগ্র চরিত্রের নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও