সহপাঠ • ১৯৭১
সহপাঠ প্রশ্ন
ষাটোর্ধ্ব আবদুল গনি সকালে তিন বছরের নাতনিকে কোলে নিয়ে বারান্দায় বসে গল্প করেন। দাঁত না থাকায় শক্ত খাবার খেতে পারেন না। পুত্রবধূর কাছে মুখ ফুটে কিছু চাইতে না পেরে তিনি সকালে জোরে জোরে কাশেন, যাতে সে বুঝতে পারে। পুত্রবধূ যত্ন করলে তিনি আপ্লুত হয়ে যান। তাঁর বিশ্বাস, এই মেয়েটির সৌভাগ্যেই সংসারে সচ্ছলতা এসেছে।
- ক)(1)
মীর আলির নাতনির নাম কী?
- খ)(2)
মীর আলি প্রতিদিন ভোরে সাড়ম্বরে কাশে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আবদুল গনির সঙ্গে মীর আলির চরিত্রের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'উদ্দীপকে উপন্যাসাংশের মীর আলির পারিবারিক জীবনের চিত্র আংশিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে'- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মীর আলির নাতনির নাম পরীবানু।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মীর আলির চায়ের প্রতি আগ্রহ আছে, কিন্তু সে পুত্রবধূ অনুফার কাছে মুখ ফুটে তা চাইতে পারে না। ঘরে বদির আনা চায়ের পাতা ও গুড় আছে। তাই সে ভোরে সাড়ম্বরে কাশে, যাতে অনুফার চায়ের কথা মনে পড়ে যায়। বেশিরভাগ দিনই অনুফার তা মনে পড়ে না। এতে মীর আলির নিরীহ, সংকোচপ্রবণ স্বভাব প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আবদুল গনির সঙ্গে মীর আলির চরিত্রের সাদৃশ্য নাতনির প্রতি স্নেহ, পুত্রবধূর কাছে নিজের চাহিদা প্রকাশে সংকোচ এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতার দিকে। উপন্যাসে মীর আলি দিনের বেলা তিন বছরের নাতনি পরীবানুকে কোলে নিয়ে বারান্দায় বসে থাকে এবং তার সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলে। দাঁত না থাকায় সে মুড়ি চিবোতে পারে না, কিন্তু অনুফাকে মুখ ফুটে বলতে পারে না। অনুফা চা এনে দিলে সে অভিভূত হয়ে পড়ে এবং মনে করে অনুফার ভাগ্যেই সংসারের উন্নতি হয়েছে। গনি সাহেবের আচরণেও একই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে কেবল শান্ত পারিবারিক জীবনের চিত্র আছে, কিন্তু উপন্যাসাংশে সেই শান্ত জীবনের ওপর আকস্মিক বিপর্যয়ের ছায়াও পড়েছে। ১. মিল: উদ্দীপকের মতো মীর আলিও নাতনিকে কোলে নিয়ে বসে থাকে, পুত্রবধূর কাছে চাইতে না পেরে কাশে এবং অনুফার সৌভাগ্যে সংসারের সচ্ছলতা এসেছে বলে মনে করে। ঘরে চামুচ ও নতুন সাইকেল আসা, বদির লেপ বানানো-এসবই সেই সচ্ছলতার চিহ্ন। ২. অমিল-আকস্মিক আঘাত: উপন্যাসে চা খাওয়ার মুহূর্তেই হালকা মেশিনগানের গুলির শব্দ শোনা যায়। পরীবানু ভয়ে কাঁদতে থাকে এবং মীর আলির হাত থেকে চায়ের বাটি উল্টে পরীবানুর পায়ে পড়ে। উদ্দীপকে এমন কোনো আঘাত নেই। ৩. ভয় ও ক্ষুধা: পরে অনুফা ভয়ে রান্না করে না, ক্ষুধায় মীর আলি অস্থির হয়ে পড়ে। উদ্দীপকে এই যুদ্ধকালীন আতঙ্ক অনুপস্থিত। অতএব উদ্দীপক মীর আলির স্নেহ ও সংকোচের দিকটি ধারণ করলেও যুদ্ধের নিষ্ঠুর বাস্তবতা ধারণ করেনি; তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও