ভূগোল ২য় পত্র • বাণিজ্য
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৬০ সালে একটি দেশের উদ্যোগে অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নরওয়ে, পর্তুগাল, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড মিলে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের জন্য একটি সংস্থা গঠন করে। পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি দেশ সংস্থাটি ত্যাগ করে, আবার কিছু নতুন দেশ যোগ দেয়। সংস্থাটির সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের একটি শহরে অবস্থিত। অর্থনীতির শিক্ষার্থী নাবিল এ সংস্থা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি করছে।
- ক)(1)
EFTA-এর পূর্ণরূপ লেখো।
- খ)(2)
মুক্ত বাণিজ্য এলাকা গঠিত হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংস্থাটি কোন দেশের উদ্যোগে, কোথায় গঠিত হয়েছিল এবং বর্তমানে এর সদস্য কারা? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সংস্থাটির উদ্দেশ্যগুলো বিশ্লেষণ করে এটি সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্যে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে তা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর EFTA-এর পূর্ণরূপ হলো European Free Trade Association (ইউরোপীয় অবাধ বাণিজ্য সংস্থা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুক্ত বা অবাধ বাণিজ্যের যুগে বিশ্বায়নের চাপে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই আগ্রাসন থেকে নিজেদের পণ্যকে সুরক্ষা দিতে দেশগুলো আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি করে। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শুল্ক ও বিধিনিষেধ কমিয়ে পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানো যায়। এ কারণেই মুক্ত বাণিজ্য এলাকা (FTA) গঠিত হয়। যেমন- ২০০৮ সালে সাউদার্ন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি (SADC) মুক্ত বাণিজ্য এলাকা গঠন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংস্থাটি হলো ইউরোপীয় অবাধ বাণিজ্য সংস্থা (EFTA)। ১৯৬০ সালে যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নরওয়ে, পর্তুগাল, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডকে নিয়ে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে সংস্থাটি গঠিত হয়। যুক্তরাজ্যসহ এই সাতটি দেশ ছিল এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে ডেনমার্ক ও যুক্তরাজ্য, ১৯৮৫ সালে পর্তুগাল এবং ১৯৯৫ সালে অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন সংস্থাটি ত্যাগ করে। অন্যদিকে ১৯৭০ সালে আইসল্যান্ড এবং ১৯৯১ সালে লিচেনস্টাইন পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগদান করে। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্যদেশ ৪টি- আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও লিচেনস্টাইন। সংস্থাটির সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সংস্থাটি হলো ইউরোপীয় অবাধ বাণিজ্য সংস্থা (EFTA)। সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে এটি গঠিত হয়েছিল। এর উদ্দেশ্যগুলো হলো- ১. সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শুল্কবিহীন বাণিজ্য সম্পাদন করা। শুল্ক না থাকায় সদস্য দেশের পণ্য একে অপরের বাজারে কম দামে বিক্রি করা যায়, ফলে আন্তঃসদস্য বাণিজ্য বাড়ে। ২. পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোকে একটি বাজারে পরিণত করতে সাহায্য করা। এতে বৃহত্তর বাজার সৃষ্টি হয়, যা উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক। ৩. বৈদেশিক বাণিজ্যের উন্নতিসাধন করা। এর ফলে সদস্য দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যসহ সাতটি দেশ ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের জন্য সংস্থাটি গঠন করেছিল। তবে কয়েকটি দেশ সংস্থা ত্যাগ করায় বর্তমানে সদস্য মাত্র ৪টি। তবুও শুল্কবিহীন বাণিজ্য ও অভিন্ন বাজারের সুবিধা সদস্য দেশগুলোকে বাণিজ্যে লাভবান করছে। সুতরাং বলা যায়, সদস্যসংখ্যা কমে গেলেও উদ্দেশ্যগুলো অনুযায়ী সংস্থাটি সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও