বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

একটি মহাসড়কের পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি হাট বসে। হাটের দিনে দোকানিরা সড়কের একাংশ দখল করে বসে, কেউ কেউ রাস্তায় ধান শুকায় এবং গরু-ছাগল বেঁধে রাখে। কাছেই ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও অনেকে দৌড়ে রাস্তা পার হয়। গতকাল স্কুলের এক শিক্ষার্থী রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় আহত হয়েছে।

  1. ক)

    জেব্রাক্রসিং কী?

    (1)
  2. খ)

    পথচারীদের সড়ক ব্যবহারের নিয়ম না জানা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত দুর্ঘটনার কারণগুলোকে সড়কের পরিবেশ, পথচারীর আচরণ ও চালকের আচরণ – এই তিনটি ক্ষেত্রে ভাগ করে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের এলাকাটিকে নিরাপদ রাখতে তুমি কী কী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেবে? যুক্তিসহ লেখো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাস্তা নিরাপদে পারাপারের জন্য সড়কের ওপর সাদা দাগ দিয়ে চিহ্নিত পথচারী পারাপারের স্থানকে জেব্রাক্রসিং বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অনেকেই রাস্তার কোন পাশ দিয়ে চলতে হবে বা কখন রাস্তা পার হতে হবে সে বিষয়ে জানেন না। অজ্ঞতার কারণে তাঁরা যেখানে-সেখানে বা দৌড়ে রাস্তা পার হন, জেব্রাক্রসিং ও ওভারব্রিজ ব্যবহার করেন না। কেউ কেউ মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে হাঁটেন। এই অসতর্কতা ও উদাসীনতার কারণে চলন্ত গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। তাই সড়ক ব্যবহারের নিয়ম না জানা দুর্ঘটনার কারণ হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত দুর্ঘটনার কারণগুলোকে তিনটি ক্ষেত্রে ভাগ করা যায়।

    সড়কের পরিবেশ: সড়কের ওপর হাটবাজার স্থাপন, দোকানিদের সড়কের একাংশ দখল, মহাসড়কে ধান শুকানো এবং গরু-ছাগল বেঁধে রাখা। এতে গাড়ির চলার পথ সংকীর্ণ ও বাধাগ্রস্ত হয় এবং গাড়ি, অযান্ত্রিক যান ও পথচারী একই জায়গায় চলতে বাধ্য হয়, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।

    পথচারীর আচরণ: কাছে ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও দৌড়ে রাস্তা পার হওয়া। জেব্রাক্রসিং ও ওভারব্রিজ ব্যবহার না করা এবং সড়ক ব্যবহারের নিয়ম না মানা পথচারীর অসতর্কতার পরিচায়ক, যা দুর্ঘটনা ঘটায়।

    চালকের আচরণ: বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল। বিদ্যালয় ও হাটের মতো জনবহুল স্থানে মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ট্রাফিক আইনের পরিপন্থি এবং দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

    এভাবে সড়কের পরিবেশ, পথচারী ও চালক – তিন ক্ষেত্রের ত্রুটির সম্মিলিত ফলেই শিক্ষার্থীটি আহত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে আমি নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেব।

    প্রথমত, সড়কের ওপর হাটবাজার স্থাপন বন্ধ করা এবং সড়কে ধান, পাট শুকানো বা গরু-ছাগল বাঁধা নিষিদ্ধ করা। এতে সড়ক বাধামুক্ত হবে ও গাড়ি নিরাপদে চলবে। দূরপাল্লার সড়কের পাশে হাটবাজার না বসিয়ে বিকল্প স্থানে স্থানান্তর করা উচিত।

    দ্বিতীয়ত, পথচারীদের ওভারব্রিজ ও জেব্রাক্রসিং ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফুটপাত ব্যবহার, দৌড়ে রাস্তা পার না হওয়া এবং ট্রাফিক বাতি ও চিহ্ন সম্পর্কে পরিচিত করানো প্রয়োজন, কারণ শিশুরা সহজে অসতর্ক হয়।

    তৃতীয়ত, চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে গতি নিয়ন্ত্রণ করে চলতে বাধ্য করা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দায়িত্ব পালনে সচেতন করা। বিদ্যালয়ের সামনে গতি কমানোর সংকেত স্থাপন করা যেতে পারে।

    চতুর্থত, প্রচার মাধ্যমের সহায়তায় জনসচেতনতা সৃষ্টি করা এবং ছোটো ভাইবোন, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের নিরাপদ চলাচলে সহযোগিতা করা।

    এই পদক্ষেপগুলো একযোগে গ্রহণ করলে এলাকাটিকে দুর্ঘটনামুক্ত ও নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও